বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এনএস রোড বড় বাজারের স্বর্ন ব্যবসায়ী অরুণ কর্মকারের মৃত্যু ঘিরে রহস্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু বলে দাবি করা হলেও স্থানীয়দের একাংশ ও আত্মীয়-স্বজনের অভিযোগ, ছেলের নির্যাতনের জেরেই তার মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর অরুণ কর্মকার নিজেই স্থানীয় তোফাজ্জল হেলথ কেয়ারে চিকিৎসার জন্য যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। তবে ঘটনার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আত্মীয়রা।
তাদের দাবি, রবিবার সকাল ১১টার দিকে পারিবারিক কলহের সময় ছেলে অনিকের সঙ্গে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা হয় অরুণ কর্মকারের। এ সময় মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে স্ট্রোক করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ছেলে অনিক দীর্ঘদিন ধরে নেশাগ্রস্ত এবং নেশার টাকার জন্য প্রায়ই বাবার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকত।
এই ধারাবাহিক নির্যাতনের কারণেই অরুণ কর্মকারের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে তারা মনে করছেন। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন অভিযুক্ত ছেলে অনিক। মুঠোফোনে তিনি জানান, বাবার সাথে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি। উনার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। আমি বাসায় ছিলাম, বাবা তখন ক্লিনিকে ছিলেন। আমরা স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছি। পরে বড় ভাই ফোন দিয়ে জানায় বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
তখন আমি ক্লিনিকে গিয়ে এই অবস্থা দেখি। তিনি আরও বলেন, পারিবারিক আর্থিক বিষয় নিয়ে কিছু কথাবার্তা হলেও তা স্বাভাবিক পর্যায়ের ছিল এবং কোনো ধরনের সহিংসতা ঘটেনি। নিজের শারীরিক সমস্যার (মাজা ব্যথা ও সম্ভাব্য অপারেশন) প্রসঙ্গ নিয়েই বাবার সঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি। অতীতের পারিবারিক দ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করলেও ২০১৮ সালের পর থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল বলে জানান অনিক।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা মুখ খুলতে রাজি হননি। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হোক। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
