খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৬, ২:৪৩ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত সদর উপজেলার পৌরসভাধীন হাউজিং এস্টেট এলাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। প্রায় দেড় থেকে তিন দশক ধরে সংস্কার বঞ্চিত এসব সড়কে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে কাদা সৃষ্টি হচ্ছে, শুকনো মৌসুমে ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন স্থানীয়রা। নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত সংস্কারের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এসব সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানান।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, হাউজিং এস্টেটের বিভিন্ন সড়ক প্রায় ১৫ থেকে ৩০ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। কোথাও ড্রেন থাকলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই, আবার অনেক সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থাই নেই। তার মধ্যে রয়েছে ঢাকা রোডের উত্তর দিকে-মোল্লাতেঘরিয়া মোড় হতে সি ব্লক দক্ষিণপাড়া বাইতুন নাজাত জামে মসজিদ হয়ে ডি/ই ব্লক ভায়া কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকে ওঠার ড্রেনসহ সড়ক উন্নয়ন কাজ। এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক সময়কার পিচঢালা সড়কের কোনো অস্তিত্ব প্রায় নেই। পিচ উঠে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি ও বালু বেরিয়ে এসেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে কাদাময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ফলে সড়কগুলো কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে অনেক স্থানে হাঁটাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। রোগী পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি সেবার ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবু বক্কার সিদ্দিকী বলেন, “এক সময় এই সড়ক দিয়ে ট্রাক, রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করত। এখন আর কেউ আসতে চায় না। সড়কটি কাদার রাস্তায় পরিণত হয়েছে। মনে হয় যেন এটি কোনো গ্রামের রাস্তা। ১৫-২০ বছর ধরে একই অবস্থা।
আমরা শুধু আশ্বাসই পাচ্ছি।” স্থানীয় ব্যবসায়ী আলিফ ইসলাম বলেন, “হাউজিং এলাকার জন্য এই সড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমার দোকানের সামনে সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। শুধু একটি স্থানে নয়, পুরো সড়কটাই বেহাল। দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা প্রয়োজন।” অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “কাদা ও পানিতে ডুবে থাকা এই সড়ক দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। গাড়িরও ক্ষতি হয়। শহরের মধ্যে এমন রাস্তা মেনে নেওয়া যায় না।” স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা নিয়মিত পৌর কর ও অন্যান্য সেবা চার্জ পরিশোধ করলেও দীর্ঘদিন ধরে মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে বৃষ্টির পানি সড়কের ওপর জমে থেকে দ্রুত রাস্তার ক্ষতি করছে। হাউজিং এস্টেটের বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচল অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন প্রবেশ করানোও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসক মো. জাকির হোসেন বলেন, “পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ১০১টি রাস্তার তালিকা করা হয়েছে। সড়কগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে কাজ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সড়কটিও সম্ভবত ওই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “যেসব সড়কে জনগণের উপকার বেশি হবে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংস্কার করা হবে।
পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।” স্থানীয়দের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। ফলে তারা এখন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, আবাসিক এলাকার সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই হাউজিং এলাকার এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কার ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি এখন সময়ের প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নেবে এবং হাউজিং এলাকার বাসিন্দারা ফিরে পাবেন নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক নাগরিক জীবন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য