কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

সারের দামে পুড়ছে কুষ্টিয়ার পেঁয়াজ চাষি 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায়, শুধুই পেঁয়াজের খেত। দূর থেকে দেখলে মনে হবে প্রকৃতির এক শান্ত ক্যানভাস। কিন্তু এই সবুজের আড়ালে কান পাতলে শোনা যায় কৃষকের দীর্ঘশ্বাস। যে সময়ে ক্ষেতের ফসল তরতর করে বেড়ে ওঠার কথা, ঠিক সেই ভরা মৌসুমে সারের অভাবে চাষির কপালে চিন্তার ভাঁজ। স্বপ্নের ফসল ঘরে তোলার আগেই তা বিবর্ণ হওয়ার শঙ্কায় এখন দিশেহারা কুষ্টিয়ার পেঁয়াজ চাষিরা। পেঁয়াজ চাষের এই মৌসুমটি কৃষকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম সেচটি কোনোমতে পার করা গেলেও, দ্বিতীয় সেচের সময় এসে থমকে গেছেন কৃষকরা। ফসলের জীবন বাঁচাতে এখন প্রয়োজন পর্যাপ্ত সার। কিন্তু ডিলারদের দুয়ারে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেই ‘ম্যাজিক পাউডার’। সরেজমিনে দেখা যায়, সার না পাওয়ায় অনেক জমির সতেজ চারা ইতোমধ্যেই হলুদ বা বিবর্ণ হতে শুরু করেছে। কৃষকরা বলছেন, “সার ছাড়া শুধু পানি দিয়ে তো আর ফসল ফলানো যায় না।” চোখের সামনে নিজের কষ্টের ফসল নষ্ট হতে দেখে অনেকে হাহাকার করছেন। তাদের আশঙ্কা, এখনই সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফলন অর্ধেকে নেমে আসবে, যা তাদের ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়ে দেবে। সমস্যার মূল কারণটি বেশ গোলমেলে। কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সারের হাহাকার থাকলেও তা কেবল ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের’ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

পকেটে বাড়তি টাকা থাকলে, কিংবা দ্বিগুণ দাম দিতে রাজি হলে জাদুর মতো বেরিয়ে আসছে সারের বস্তা। অর্থাৎ, সার আছে, কিন্তু তা সাধারণ কৃষকের নাগালের বাইরে। যে কৃষক দিনরাত পরিশ্রম করে দেশের মসলার চাহিদা মেটাচ্ছেন, তাকেই এখন জিম্মি হতে হচ্ছে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে। আগের মৌসুমেও একই সংকটে পড়ে লোকসান গুনেছিলেন অনেকে। এবারও সেই একই চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি হলে পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না তাদের। কুমারখালী উপজেলায় এবার প্রায় ৫ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে।

এই বিশাল এলাকার চাষিদের একটাই দাবি, রাজনীতি বা অজুহাত নয়, তারা চান ন্যায্যমূল্যে সার। ডিলারদের মাধ্যমে যেন সহজলভ্য করা হয় কৃষি উপকরণ। অন্যদিকে, মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখাচ্ছে কৃষি বিভাগ। কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাইসুল ইসলামের মতে, এলাকায় সারের কোনো ঘাটতি নেই, মজুতও পর্যাপ্ত। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ যদি ফায়দা লোটার চেষ্টা করে, তবে ডিলারশিপ বাতিলসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কর্তৃপক্ষের কঠোর বার্তা আর কৃষকের মাঠের বাস্তবতার মধ্যে ফারাকটা এখনো স্পষ্ট। কৃষি কর্মকর্তার আশ্বাসের বাণী যখন অফিসের ফাইলে বন্দি, তখন মাঠের ফসল ধুঁকছে সারের অভাবে। কুষ্টিয়ার পেঁয়াজ চাষিরা এখন তাকিয়ে আছেন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দিকে। কারণ, এই সংকট শুধু কৃষকের একার নয়; উৎপাদন ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়বে সারাদেশের পেঁয়াজের বাজারেও।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর