কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

সরকারি খাল বন্ধ করে পাইপ কালভার্ট নির্মাণের অভিযোগ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুরের ইউনিয়নের বুজরুক বাঁখই বটতলা মোড় এলাকায় সরকারি খাল বন্ধ করে পাইপ কালভার্ট নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এতে হুমকিতে পড়েছে ইউনিয়নের বুজরুক বাঁখই, চাদপুর ও বহলবাড়িয়া বিলের অন্তত ৭০ হেক্টর কৃষিজমি। এ বিষয়ে সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, নন্দলালপুর ইউনিয়নের বুজরুক বাঁখই বটতলা মোড় থেকে শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার খাল রয়েছে।

এই খাল দিয়ে বহলবাড়িয়া, চাঁদপুর ও বুজরুক বাঁখই বিলের পানি পাশ্ববর্তী গড়াই ও পদ্মানদীতে প্রবাহিত হয়। তবে খালটি দীর্ঘদিন পরিকল্পিতভাবে সংস্কার না হওয়ায় এবং খাল দখল করে স্থানীয়রা একাধিক পাইপ কালভার্ট নির্মাণ করে চলাচলের সড়ক নির্মাণ করেছেন। ফলে ওই বিলে বছরে অন্তত ছয়মাস পানি জমে থাকে। জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় কৃষকরা বছরে একবার ইরি মৌসুমে ধানের চাষাবাদ করে থাকেন। কিন্তু খালের প্রবেশ মুখে বুজরুক বাঁখই বটতলা মোড়ে প্রায় ২২ ফিট চওড়া খাল বন্ধ করে ৩ ফিট প্রস্থের পাইপ কালভার্ট নির্মাণ করছে ইউনিয়ন পরিষদ। প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই পাইপ কালভার্ট নির্মাণ হলে পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি হবে এবং সারাবছরই জমি পতিত থাকবে বলে অভিযোগ কৃষকদের। বিকেলে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বুজরুক বাঁখই বটতলা মোড়ে খালের ওপর একটি পাকা সেতু রয়েছে। সেতুর পশ্চিমপাশে খালের অর্ধেকাংশে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। অবশিষ্ট অংশে প্রায় তিন ফুট চওড়া করে পাকা ঢালাই দেওয়া হয়েছে। খালের পাড়ে অবস্থিত কালু সরদারের বাড়ির আঙিনায় রাখা রয়েছে অন্তত ২৭টি পাইপ।

আর মাঠে ইরিধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষক ও শ্রমিকরা। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা সুমন হোসন বলেন, সকালে চেয়ারম্যানের লোকজন খাল বন্ধ করে পাইপ বসানোর কাজ শুরু করেছিল। জনগণ কাজ বন্ধ করে শ্রমিকদের ফেরত পাঠিয়েছেন। পাইপ নির্মাণ কাজ বন্ধের জন্য ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বুজরুক বাঁখই গ্রামের আজিজল শেখের কৃষক ছেলে রাশিদুল শেখ জানান, এই খাল দিয়ে বিলের পানি পদ্মায় যাওয়া আসা করে। বছরে এক খন্দ ( ফসল) হয়। কিন্তু খাল বন্ধ হয়ে গেলে আর কোনো খন্দই হবেনা। তিনি পাইপ নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবি জানান। কৃষক শফিকুল ইসলাম লালন জানান, চাঁদপুর বিলে শত শত বিঘা জমি আছে। পরিকল্পিত খাল খননের অভাবে বছরে সাত – আট মাস পানি জমে থাকে। সেজন্য

একবারই ইরি ধানের চাষ হয়। তবে পানি বের হওয়ার রাস্তা থাকলে তিন ফসল ফলানো যেত। এ বিষয়ে জানতে নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান খোকনকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল সেটটিও বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিষদের সচিব কালাচাঁদ বিশ্বাস ফোনে জানান, ২০২৪ – ২৫ অর্থবছরে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পাইপ কালভার্ট নির্মাণ কাজ চলছিল। স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বললে ভাল হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, স্থানীয়রা কাজ বন্ধের জন্য লিখিত অভিযোগ করেছেন। সরেজমিন পরিদর্শন করে কৃষকের স্বার্থে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর