কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

সন্ধ্যা নামলেই মিরপুর মহাসড়কে ছিনতাই-ডাকাতি আতঙ্ক

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ দিনভর কর্মব্যস্ততার পর সন্ধ্যা নামতেই কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের চিত্র পাল্টে যায়। দিনের বেলায় স্বাভাবিক চলাচল থাকলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনশূন্য হয়ে পড়ে অধিকাংশ সড়ক। এ সুযোগে ছিনতাই ও ডাকাতির আশঙ্কায় আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী, যাত্রী ও যানবাহন চালকদের। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার কয়েকটি সড়ক রাতের বেলায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত।

এর মধ্যে রয়েছে মিরপুর-দৌলতপুর সড়কের ডাকাতির পুষ্কুনি ও চেয়ারম্যানের ইটভাটা এলাকা, কুষ্টিয়া-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ভাঙা বটতলা, চেয়ারম্যান সড়ক ও কাতলামারী মাঠ, মিরপুর-পোড়াদহ সড়কের শাহাদালির বাগান মোড় ও ছাতিয়ানের বিষণতার মাঠ, মিরপুর-ভেড়ামারা জিকে খাল সড়কের গোবিন্দগুনিয়া লুইসগেট এবং মিরপুর-অঞ্জনগাছী সড়কের বিভিন্ন অংশ। স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় নেমে আসে ভুতুড়ে নীরবতা।

ফলে অপরাধীদের দৌরাত্ম্যের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। ভুক্তভোগী পথচারীরা জানান, দিনের বেলায় চলাচলে কোনো সমস্যা না থাকলেও রাতের অন্ধকারে এসব সড়ক ব্যবহার করা যেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলার শামিল। যাত্রীবাহী একটি যানবাহনের চালক বলেন, “রাতে যাত্রী নিয়ে চলাচলের সময় সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। নিয়মিত পুলিশ টহল ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে আমরা অনেক বেশি নিশ্চিন্তে চলাচল করতে পারতাম।”

মিরপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল করিম বলেন, কিছুদিন পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বর্তমানে আবারও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও সক্রিয় হলে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। মিরপুর ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মাহমুদুল হক মজুমদার জানান, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের একাধিক টিম নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। টহল কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রতিটি টিমের লাইভ লোকেশন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুর বলেন, মানুষের জানমাল রক্ষা করা সবার দায়িত্ব, তবে এ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জনবল সংকটের কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে এবং তার বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে।

পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ সড়কগুলোতে নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত স্ট্রিটলাইট ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা হলে ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর