কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের বর্ণাঢ্য আয়োজনে আর্ন্তজাতিক শ্রমিক দিবস উদযাপিত হয়েছে। তবে এ দিবসটিতেও ছুটি কাটাতে পারিনি প্রান্তিক শ্রমিকরা। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও নিজ নিজ কর্মস্থলে ছুটে গেছেন তারা। তাঁদের ভাষ্য, যাঁরা দিন আনে দিন খায়। সেসব মানুষের কোনো দিবস নাই। খেয়ে পরে বাঁচতে হলে প্রতিদিনই কাজ করতে হয়। দিবস কি খাতি দেয়? প্যাট ( পেট) না চললি দিবস দিয়ে কি হবি?
প্রশ্ন এসব প্রান্তিক শ্রমিকদের। শুক্রবার ( ১ লা মে) সকাল থেকে কুমারখালী পৌর এলাকা, যদুবয়রা, নন্দলালপুর, জগন্নাথপুর ও সদকী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নির্মাণ ও হোটেল শ্রমিক, কৃষক, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, ভ্যান ও ইজিবাইক চালক, রাইচ মিলসহ বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমিকরা ছুটে চলেছেন নিজ নিজ কাজে। শরীরের ঘাম ঝরিয়ে করছেন কাজ। শ্রমিক দিবসেও দম ফেলানোর সময় নেই তাঁদের। অনেকেই জানেন না দিসবটি সমন্ধে।
বৌ’র লিভারে সমস্যা। ঢাকা, রাজশাহী মারে ৬ লাখ টাকা দিনা। সংসারে চারজন খানেওয়ালা। একদিন কাজ না করলি সংসার চলেনা। দিসব কি খাতি দেয়? কথাগুলো বলছিলেন কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম (৪৪)। তিনি পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক। শুক্রবার সকালে কুমারখালী বাসস্টান্ড এলাকায় পৌরসভার ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ করতে দেখা গেছে তাকে।
নজরুল বলেন, জানি শ্রমিক দিবস। ছুটির দিন আজ। কিছুক্ষণ আগে একটা মিছিল গেছে এমিনদে ( এই সড়ক)। কিন্তু কিছু করার নাই। তামানদিন (সারাদিন) কাজ করে ৫৫০ টাকা পায়। ওইতা দিয়েই চাল, ডাল, নুন, ত্যাল ও বৌর ওষুধ নিয়ে বাড়ি যাব। দিবস দিয়ে কি করব। আরেক শ্রমিক মোতালেব শেখ (৭০) প্রশ্ন করে বলেন, প্যাট না চললি দিবস দিয়ে কি হবি? গরিব মানষের খাতি হলি কাম করায় লাগবি। এসব দিবস – টিবস স্যুট – প্যান (প্যান্ট) পরা লোকদের। আমারে না।
তিনি উপজেলার যদুবয়রা পুরাতন বাজার এলাকার বাসিন্দা। সংসারে তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক কণ্যা আছে বলে তিনি জানান। নন্দলালপুর ইউনিয়নের বাঁশআড়া বিলের শ্রমিক আব্দুল গাফফার (৫৫) বলেন, শুক্রবার তা জানি। কি দিবস তা তো জানিনে। সকাল – বিকাল আকাশে মেঘ বৃষ্টি। মাঠে ধান পাকে গেছে। সিজেনের সময় বসে থাকার সময় নাই। এতে কৃষকেরও লাভ, আমারও লাভ। দিবসটিতে সকালে কুমারখালী বাসস্টান্ড সংলগ্ন গোলচত্বর এলাকায় আয়োজিত আলোচনা সভায় ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, একদিন শ্রমিকরা কাজ না করলে এর প্রভাব আমাদের সকলের ওপরেই পড়বে। সুতরাং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
