দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে চরাঞ্চলের প্লাবিত এলাকার পানিবন্দী ও অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ বাচ্চু মোল্লা। ত্রাণ বিতরণকালে সংসদ সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং এই দুর্যোগময় মুহূর্তে চিলমারীবাসীর পাশে শেষ পর্যন্ত থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, জনগণের যেকোনো দুর্যোগ ও বিপদে পাশে থাকাই আমাদের প্রথম দায়িত্ব।
চিলমারীর একটি মানুষও যেন খাদ্য বা চিকিৎসার অভাবে কষ্ট না পায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রধান পানিবন্দী মানুষের এই দুদর্শায় সরকার সব সময় পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে এবং এই সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিন্দ্য গুহ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক শহীদ সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মি সহ উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। গতকাল চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ১২০টি পরিবারকে এক কেজি মুড়ি,৫’শ গ্রাম চিড়া, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি মসুরডাল, ৫’শ মিলি সয়াবিন তেল, ৫’শ গ্রাম লবন ও ৫প্যাকেট করে খাওয়ার স্যালাইন এবং ৬’শ ৫০টি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, পদ্মানদীতে পানিবৃদ্ধির ফলে দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ৩৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, দুই ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রামের অন্তত ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়েছে। চরাঞ্চলের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলের ৩ হাজার ২৩ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গত এলাকায় রান্নার স্থান ও নলকূপ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা।









