ডেক্স রিপোর্ট ॥ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা, ইজারা স্থগিত ও প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান সত্ত্বেও কুষ্টিয়া-পাবনা সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীতে থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, স্থানীয় ক্ষমতাধর মহল ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর ছত্রচ্ছায়ায় রাতের আঁধারে চলছে এই বালু উত্তোলন। প্রতিদিন উত্তোলন করা হচ্ছে প্রায় ১ কোটি টাকার বালু।
দেশের একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলার সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর অন্তত কয়েকটি পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুতের কার্যক্রম চলছে। শিলাইদহ ঘাট, পদ্মা-গড়াইয়ের মোহনা, বেলতলা, কলাবাগান ও চর তারাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাল্ক ক্যারিয়ারে করে নদী থেকে বালু তুলে তীরবর্তী ডিপোতে মজুত করা হচ্ছে। পরে ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে এসব বালু।
অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের বেশি ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনের একাধিক অভিযান ও আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যেই চলছে বালু উত্তোলন। ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কুষ্টিয়া ও পাবনা প্রান্ত মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অন্তত ৫০টি বাল্ক ক্যারিয়ারে এসব বালু পরিবহন করা হয়।
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাও থামাতে পারেনি লুট
প্রতি ঘনফুট বালুর আনুমানিক মূল্য ৩০ টাকা ধরলে প্রতিদিনের এই বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি টাকারও বেশি। সংশ্লিষ্ট এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বালু উত্তোলন বৈধ হলে প্রতি ঘনফুটে জেলা প্রশাসনকে অন্তত ৪ টাকা রাজস্ব দিতে হতো। সে হিসাবে প্রতিদিন সাড়ে ৩ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলনে সরকার দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী অংশে বর্তমানে বালু উত্তোলনের কোনো বৈধ ইজারা নেই বলে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কুষ্টিয়া ও পাবনা দুই প্রান্তের ইজারাই স্থগিত রয়েছে।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে জেলায় কোনো বৈধ বালু মহাল নেই। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বৈধভাবে আনা বালু সংরক্ষণের জন্য পাঁচটি বালু মহাল স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, বালু মহাল ইজারা নেওয়ার কথা বলে অনেকেই অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছিলেন। এ কারণে প্রশাসন বালু মহাল নিষিদ্ধ করেছিল।
এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের ভাষ্য, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কিছু গোষ্ঠী সশস্ত্র হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পদ্মা নদীর কুষ্টিয়া-পাবনা অংশে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চে হাইকোর্ট গোয়ালন্দ থেকে পাকশী পর্যন্ত পদ্মা নদীর অংশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ দেন। এর আওতায় কুষ্টিয়া অঞ্চলের পদ্মার অংশও রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের মার্চে দেওয়া চূড়ান্ত রায়েও ওই নির্দেশ বহাল রাখা হয়। এ ছাড়া বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের আওতায় ভাঙন ও পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ড্রেজিংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে এসব আইন ও আদালতের নির্দেশনার পরও নদী থেকে বালু উত্তোলন থামেনি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভাষ্য, নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মূলত রাতের বেলায় বালু উত্তোলন করা হয়। উত্তোলনস্থলে থাকে পাহারা। অপরিচিত ব্যক্তি কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের গতিবিধি দেখা গেলে নদীতীরবর্তী এলাকা থেকে বালু উত্তোলনকারীদের সতর্ক করার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাল্ক ক্যারিয়ারে করে নদী থেকে বালু তুলে তা নদীর তীরবর্তী ডিপোতে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বড় ট্রাকে করে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। জুলাই মাসে কয়েক দফা সরেজমিন পরিদর্শনের সময় প্রতিবেদক দল নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বালুর স্তূপ, বালু নামানোর যন্ত্রপাতি ও বাল্ক ক্যারিয়ারের উপস্থিতি দেখতে পায় বলে দেশের ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১২ জুলাই কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে বালুবাহী কয়েকটি ট্রাকের গতিবিধি অনুসরণ করা হয়। এক ট্রাকচালক জানান, কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের একটি ঘাট থেকে বালু নিয়ে যশোরের দিকে যাচ্ছেন তিনি।
পরদিন মিরপুরের তালবাড়িয়া এলাকার একটি নদীতীরবর্তী ডিপোতেও বিপুল পরিমাণ বালু মজুত অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসনের তৎপরতার কারণে আগের তুলনায় ব্যবসা কিছুটা কমেছে। মুন্সীপাড়া ও টিকটিকিপাড়া ঘাট এলাকায় বিপুল পরিমাণ বালুর স্তূপ এবং বাল্ক ক্যারিয়ার থেকে বালু নামানোর যন্ত্রপাতি দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে মজুত করা বালু থেকে গড়িয়ে পড়া পানিতে নদীতীর সংরক্ষণে ব্যবহৃত জিওব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ভেড়ামারার সহকারী কমিশনার (ভূমি) গাজী আশিক বাহার মুন্সীপাড়া ঘাট পরিদর্শন করেন।
তিনি জানান, ওই ডিপো সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনও করেছেন। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল ওয়াদুদ জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ১৪২টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪টি ছিল ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। এসব অভিযানে ১৯ জনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৩৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া ছয়টি এক্সকাভেটর বা ভেকু মেশিন এবং দুটি ডাম্প ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এরপরও অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।
১৭ জুলাই পদ্মা-গড়াইয়ের মোহনার হরিপুর এলাকায় অন্তত সাতটি বাল্ক ক্যারিয়ারকে বালু উত্তোলনে সক্রিয় দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বালু ব্যবসার সঙ্গে পরিচিত কয়েকজনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফের সহযোগী ও স্বজনদের কথিত প্রভাবের কারণে এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বেড়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বালু উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের একটি অংশ বদলে গেলেও ব্যবসা বন্ধ হয়নি বলে তাদের দাবি।
কুষ্টিয়া প্রান্তে স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল খন্দকার, কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ ওরফে বাচ্চু মোল্লার ছেলে শিশির মোল্লা, ভেড়ামারা আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ খান এবং ‘কালু বাহিনী’ ও ‘সুখচাঁদ-নাহারুল বাহিনী’ নামে পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে পাবনা প্রান্তে জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, তার ভাই বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মেহেদী হাসান, ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুলতান আলী বিশ্বাস টনি এবং রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বিল্লাল-মমতাজ গ্রুপের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কয়েকজন তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। জাকারিয়া পিন্টু দাবি করেন, বালুর ব্যবসার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তার দাবি, আমার ছোট ভাই মেহেদি বালুর ব্যবসার জড়িত। সুলতান আলী বিশ্বাসও অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ ও তার ছেলে শিশির মোল্লার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘১০০ শতাংশ মিথ্যা’ বলে দাবি করা হয়েছে। আবু সাঈদ খান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অবৈধ বালু পরিবহনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশের যোগসাজশের অভিযোগও পাওয়া গেছে। একাধিক সূত্রের দাবি, লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা প্রতিটি বালুবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার থেকে ৩ হাজার টাকা করে আদায় করেন।
তবে লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির প্রধান শফিকুল ইসলাম অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, পুলিশ কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি জানান, চলতি বছরের এপ্রিলে হরিপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে নৌ পুলিশের সদস্যরা সশস্ত্র হামলার শিকার হন। ওই ঘটনায় পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন আহত হন এবং কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।
পদ্মার বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া অঞ্চলে সংঘাত ও হামলার ঘটনাও নতুন নয়।
২০২৩ সালের অক্টোবরে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ছয় সাংবাদিক হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের স্পিডবোট ডুবিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরের এপ্রিলে হরিপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযানের সময় সশস্ত্র হামলায় পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন আহত হন।
গত বছরের ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কুষ্টিয়া, পাবনা ও নাটোরের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারদের কাছে চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে বলা হয়, নাটোরের লালপুর উপজেলার দিয়ার বাহাদুরপুর বালু মহাল ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়া মোল্লা ট্রেডার্স তখন ওই অঞ্চলের একমাত্র বৈধ ইজারাদার ছিল।
কুষ্টিয়া ও পাবনা এলাকায় কোনো বৈধ ইজারাদার ছিল না। বিআইডব্লিউটিএর অভিযোগ ছিল, ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সাবেক কয়েকজন ইজারাদার অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখেন। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। বালু উত্তোলনের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, বালু উত্তোলন সবসময় ক্ষতিকর নয়। তবে কখন, কোথা থেকে এবং কী পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, তার ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে।
তার মতে, নদীর তলদেশে বড় ধরনের ক্ষত তৈরি করে পানির প্রবাহ যদি তীরের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। মাছের প্রজনন মৌসুমে বালু উত্তোলন করলেও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তার মতে, এটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ‘যে জেতে, সব কিছু তার’ ধরনের সংস্কৃতির গভীরতা তুলে ধরে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক যোগাযোগ থেকে পাওয়া ক্ষমতাকে জবাবদিহি ছাড়াই ব্যবহারের প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ক্ষেত্রে শুধু সুবিধাভোগী বা নিয়ন্ত্রণকারীর হাতবদল হয়েছে। কিন্তু চর্চার কাঠামোগত পরিবর্তন হয়নি। ফলে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা, সরকারি অভিযান, জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরও কুষ্টিয়া-পাবনা সীমান্তবর্তী পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রশ্ন উঠছে আইন ও আদালতের নির্দেশনার পরও কীভাবে প্রতিদিন কোটি টাকার এই বালু বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চলছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছে? দেশের একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসা এসব তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।








