বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার হরিপুর-কুষ্টিয়া সংযোগ সেতুর নিচে প্রতি শুক্রবার পিকনিক ও নৌকা ভ্রমণের নামে অশালীন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে এসব দেখতে সেতুর ওপর মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার পার্কিং করায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে থাকার কথা জানিয়েছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। যানজট নিয়ন্ত্রণে নৌপুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশও সহযোগিতা করবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি শুক্রবার হরিপুর ব্রিজের নিচে নৌকা ভ্রমণ ও পিকনিককে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। অনেকেই এসব দেখতে সেতুর ওপর মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার দাঁড় করিয়ে রাখেন। এতে সেতুর দুই পাশে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্বাভাবিক সময়ে হরিপুর-কুষ্টিয়া সংযোগ সেতু পার হতে যেখানে এক থেকে দুই মিনিট সময় লাগে, সেখানে শুক্রবার যানজটের কারণে এক ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ফলে হরিপুর থেকে কুষ্টিয়া শহরমুখী এবং শহর থেকে হরিপুরগামী সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তীব্র যানজটের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন জরুরি রোগী ও তাদের স্বজনরা।
হরিপুর ব্রিজের ওপরে তীব্র যানজট
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যানজটের মধ্যে প্রসূতি কিংবা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল, কুষ্টিয়া মেডিকেল হাসপাতাল অথবা কোনো বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিলম্ব হলে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠতে পারে। গত শুক্রবারের তীব্র যানজটের পর হরিপুর এলাকার সচেতন মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) হরিপুর ব্রিজ যানজটমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও নিয়েও এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওগুলোতে উঠতি বয়সী কয়েকজন তরুণকে হরিপুর ব্রিজের নিচে পিকনিক করতে আসার কথা বলতে শোনা যায়। একইসঙ্গে হরিপুরের মানুষের সঙ্গে ‘খেলা হবে’ এমন হুমকিসূচক বক্তব্যও শোনা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পিকনিক ও নৌকা ভ্রমণের নামে অশালীন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্রিজের ওপর যত্রতত্র যানবাহন পার্কিংয়ের কারণে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তারা এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “পিকনিক বা নৌকা ভ্রমণের নামে অশ্লীলতা বা বেহায়াপনা রোধে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবো।” তিনি জানান, হরিপুর ব্রিজের যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে নৌপুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ব্রিজটি যানজটমুক্ত রাখতে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশকে নৌপুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ সহযোগিতা করবে।
ওসি আরও বলেন, জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সেদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকবে। স্থানীয়রা আশা করছেন, পুলিশের কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শুক্রবারের হরিপুর ব্রিজের যানজট এবং নৌকা ভ্রমণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।









