মোশারফ হোসেন ॥ উৎসবের আমেজ, একদিকে বিদায়ের বেদনা আর অন্যদিকে শুভ বিজয়ার আনন্দে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। গতকাল বুধাবার (২১ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা।
কুমারখালী পৌর এলাকার শেরকান্দি গ্রামে ইকোপার্ক সংলগ্ন গড়াই নদীতে পরম ভক্তিতে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জনের সময় ভক্তরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা এবং পৃথিবীর যাবতীয় অশুভ শক্তির বিনাশ প্রার্থনা করেন।
শেরকান্দি গ্রামের এই বিসর্জন ঘাটটি ধর্মীয় সম্প্রীতির এক বিরল ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখানে একই আঙিনায় রয়েছে মসজিদ ও প্রতিমা বিসর্জনের ঘাট। বছরের পর বছর ধরে কোনো প্রকার বিভেদ ছাড়া পাশাপাশি চলছে মুসলিম সম্প্রদায়ের ইবাদত এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিসর্জন উৎসব। নির্দিষ্ট সময়ে সময়মতো আজান ও নামাজ হচ্ছে, আবার নিয়ম মেনে সানন্দে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পূজাঅর্চনা ও বিসর্জন।
স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও এই সম্প্রীতিকে স্বাগত জানানো হয়েছে। কুমারখালী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাকারিয়া আনছার মিলন বলেন, “আমরা হিন্দু-মুসলিম অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে একই পরিবারের মতো বসবাস করে আসছি। এখানে ধর্ম নিয়ে কখনোই কোনো বিরোধ হয়নি। এলাকার মানুষ মনে-প্রাণে অসাম্প্রদায়িক এবং নিজ নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অপরের ধর্মের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল।”
কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়দেব কুমার বিশ্বাস জানান, “পুরো কুষ্টিয়া জেলায় এবার ২৫৮টি দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে কুমারখালী উপজেলাতেই ছিল ৬১টি পূজামণ্ডপ। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশ ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে আমাদের প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। এই জেলায় কোনো উগ্রবাদের স্থান নেই।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, “দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ছিল। সবার সহযোগিতায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বিসর্জনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।









