দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্ধুদের সঙ্গে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে পাপ্পু হোসেন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর নদীর তলদেশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের শুকারঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত পাপ্পু হোসেন চিলমারী বাজারপাড়া এলাকার মনির খা এর ছেলে।
সে জোতাশাহী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে পাপ্পু হোসেন তার ৩-৪ জন বন্ধুর সঙ্গে শুকারঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে যায় সে। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
প্রায় চার ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর ডুবে যাওয়ার স্থান থেকে আনুমানিক ৩০ ফুট দূরে এবং নদীর প্রায় ১৫ ফুট গভীর তলদেশ থেকে পাপ্পুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করে। ফায়ার সার্ভিসকেও খবর দেওয়া হয়, তবে তাদের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ফিরে আসেন বলে জানা গেছে। চিলমারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে পাপ্পু পদ্মা নদীতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে প্রায় চার ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, শিশুটি নিখোঁজের খবর পেয়ে চিলমারী ইউনিয়নের বিট অফিসারসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিন থেকে চার ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর পাপ্পুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। তবে দল পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করায় পরে তাদের ফিরে আসতে হয়েছে।









