কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান 

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। ঘুষ, অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে সরকারি এই কার্যালয়টি। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশীরা। দলিল লেখক সমিতির লোকজন ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত একটি চক্র রমরমা ঘুষ বাণিজ্য করে আসছে।

ঘুষের টাকার ভাগ সাব-রেজিস্ট্রারের পকেটে যায় বলে জানা গেছে। সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দলিল রেজিস্ট্রি করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।

সাব-রেজিস্ট্রার ও দালাল চক্রের মাধ্যমে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতি দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়। নামের ভুল থাকলে ঘুষ দিতে হয়। দলিলের দাম বেশি নেওয়া হয়। এভাবে প্রতিটি সেবার জন্য পদে পদে ঘুষ দিতে হয়। কুষ্টিয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এসব অভিযোগ নিত্যদিনের ঘটনা। অভিযোগ নির্মূলে অভিযান পরিচালিত হলেও তা নিষ্ফলা অভিযানে পরিনত হয়েছে।

গতকাল বুধবার (৩ জুলাই) দুপুরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ রিফাতুল ইসলামের নেতৃত্বে আইন শৃংখলা বাহিনী সহকারে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সদর সাব-রেজিষ্ট্রার মো. রাসেল মল্লিক।

অভিযানিক টিম তাৎক্ষনিক দলিল লেখকদের সেরেস্তায় উপস্থিত দলিল দাতা ও গ্রহীতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অফিস খরচ নামে আদায়কৃত অতিরিক্ত টাকার বিষয়ে জানতে চান। কিন্তু নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের এমন প্রশ্নের সঠিক জবাব কেউ দেননি বলে অভিযোগের কোন সত্যতা মেলাতে পারেননি অভিযান টিমের প্রধান। অবশেষে সিমাহীন অনিয়মের সর্বজনজ্ঞাত এই প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়া সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চত্বরে এক নিষ্ফলা অভিযান শেষে সতর্ক করে দিয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের অভিযানিক দল রেজিস্ট্রি অফিস চত্বর ত্যাগ করেন। এসময় সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ রিফাতুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি সরকার গ্রহন করেছে।

তারই অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের দপ্তরে বিভিন্ন সময় গণশুনানী এবং অন্যান্য সময়েও জেলা প্রশাসন বরাবর দেয়া অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া যায় যে, ভুমি রেজিস্ট্রিী করতে এসে ক্রেতা-বিক্রেতা বা দাতা-গ্রহিতারা সরকার নির্ধারিত খরচের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এমন অভিযোগের সত্যতা যাচায়ে এই অফিস চত্বরের বিভিন্ন সেরেস্তায় গিয়েছি। এখানে আগত ক্রেতা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানার চেষ্টা করেছি; কিন্তু যে কোন কারনেই তারা আমাদের কাছে সঠিক তথ্য দেননি বা স্বীকার করেননি বলে আমরা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে একটা অনুমিত ধারনা পেয়েও অভিযোগে জড়িত কোন অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারিনি।

তবে চলমান এই অভিযান অব্যহত থাকবে। এসময় অভিযোগ বিষয়ে সাংবাদিকরা সদর সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ রাসেল মল্লিকের কাছে মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এখানে এসেছিলেন মূলত: উনার অফিসিয়াল কাজে। উনি কি অভিযোগ পেয়েছেন বা কি অভিযোগের ভিত্তিতে আসছেন সেবিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।

উনি আমাকে বল্লেন আমি একটু সেরেস্তায় যাবো আপনি আমাকে সহযোগিতা করুন, আমি জাষ্ট উনাকে সহযোগিতার জন্য উনার সাথে গিয়েছি। এসময় উনি অভিযোগের সত্যতা বিষয়ে কি পেয়েছেন কি পায়নি সেবিষয়েও আমি কিছু জানিনা। তাছাড়া অভিযোগ বিষয়ে আমার দপ্তরে এখনও কেউ এধরনের কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি যে তার কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত টাকা কেউ আদায় করেছে; কেউ যদি এমন অভিযোগ নিয়ে আসে তাহলে জড়িত অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এসময়ে কুষ্টিয়া সদর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস চত্বরে ভ্রাম্যমান অভিযানকালে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা অভিযোগের সত্যতা খুঁজে না পাওয়কে তাজ্জব মনে করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় নানা মন্তব্য করতে দেখা যায়।

Tags :

Desk Reporter

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর