কুষ্টিয়াতে প্রেম নিবেদন করে ব্যর্থ হয়ে কুপ্রস্তাব এবং তাতে রাজি না হওয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার করে শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে ব্লাক মেইল করার চেষ্টা করার অভিযোগে দৌলতপুরের তালবাড়ীয়া এলাকার রওশন আলীর পুত্র রাকিবুল হাসান (৪০) কে আটক করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ।

জানা যায়, বেশ কিছু দিন আগে একটি মামলা সুবাদে আটক রাকিবুল হাসান এবং কুষ্টিয়া কোর্টে কর্মরত শিক্ষানবিশ মহিলা আইনজীবীর পরিচয় হয়। এর পর থেকে রাকিবুল হাসান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মোবাইল নাম্বার দিয়ে ঐ আইনজীবীর নাম্বারে ফোন দিয়ে বিভিন্ন ধরণের অশ্লীল কথাবর্তা বলতেন এবং ভুক্তভোগী ঐ মহিলা আইনজীবী তৎক্ষনাত ঐ নাম্বার গুলো ব্লক করে দিতেন। কিন্তু পরবর্তিতে আবারো বিভিন্ন নম্বর দিয়ে ফোন করে প্রেম নিবেদন করা সহ অশ্লীল কথা বার্তা বলে শারীরিক সম্পর্ক করিবার জন্য কুপ্রস্তাব দিত। ভুক্তভোগী মহিলা আইনজীবী তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ার ফলে রাকিবুল হাসান প্রযুক্তীর অপব্যবহার করে ঐ মহিলা আইনজীবীর মুখাকৃতি ব্যবহার করে অন্যের নগ্ন ছবি ও ভিডিওর সাথে সংযুক্ত করে বিভিন্ন মোবাইল নাম্বার থেকে ভুক্তভোগীর Whatsapp ম্যাসেঞ্জারে পাঠায়। এর পর শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ৩ টা ১৩ মিনিটের সময় রাকিবুল হাসান একটি Whatsapp নাম্বার থেকে ভুক্তভোগী ফোন করে এবং বলে আমার সহিত যোগাযোগ রাখতে এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন না করিলে উক্ত নোংড়া ভিডিও ও ছবি সোস্যাল মিডিয়া সহ সকল আত্মীয় স্বজনের নিকট ছড়াইয়া আমার মান ইজ্জত হানী করবে বলে হুমকী দিতে থাকে। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার স্বামীর সাথে শেয়ার করে এবং স্বামীর পরামর্শে আসামী রাকিবুল হাসানকে বাসায় আসতে বলে এবং সেই সাথে বিষয়টি পুলিশকে জানান তারা। পরবর্তীতে স্থানীয় থানা পুলিশ ভুক্তভোগী ঐ আইনজীবীর বাড়ী থেকে আসামীকে গ্রেফতার করে। কুষ্টিয়া মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, এই বিষয়ে ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইনের ৮(৫) (ক) ধারায় গতকাল শুক্রবার একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং আসামীকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে রাকিবুল সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই। সে একজন প্রফেশনাল প্রতারক। এধরনের ঘটনা নতুন নয়। রাকিবুল একাধিক মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরী করে ঘনিষ্ঠ মূহুর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে অথবা প্রযুক্তির মাধ্যমে নগ্ন ছবি ও ভিডিও তৈরী করে ব্লাকমেইল করায় তার কাজ। মান সম্মানের ভয়ে এতদিন কেউ তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়াও রাকিবুল সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে বেরিয়ে আসে তার আরও অপকর্মের কাহিনী। প্রতারণার পাশাপাশি রাকিবুল মাদককারবারিতেও জড়িত। সে কুষ্টিয়া দৌলতপুরের শীর্ষ মাদককারবারিদের মধ্যে অন্যতম। ইয়াবা ও ফেনসিডিলের বড় বড় চালান তার গাড়িতে বহন করে খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে নিজেই পোঁছে দেয় রাকিবুল। মাদক ব্যবসা ও নারীদের থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ দিয়ে রাকিবুল প্রচুর টাকার মালিক বনে গেছেন বলেও জানিয়েছে একাধিকজন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি এই প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। যেন এ ধরনের ঘটনা আর কেউ করার সাহস না পায়। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার রাকিবুলকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
