কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে ১৪টি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ উপজেলায় মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১৪টি অভ্যন্তরীণ জলাশয়, বিল ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে ৩৫৭ কেজি কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করে উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি নাভিদ সারওয়ার। উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, উপজেলার ১৪টি অভ্যন্তরীণ বিল, বর্ষাপ্লাবিত ধানক্ষেত, প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

এসব পোনা বড় হয়ে প্রাকৃতিকভাবে বংশবিস্তার করলে স্থানীয়ভাবে মাছের উৎপাদন বাড়বে। একই সঙ্গে দরিদ্র ও প্রান্তিক জেলেরা উপকৃত হবেন। পোনা পেয়ে খুশি স্থানীয় জেলে ও উপকারভোগীরা। তবে তারা এমন উদ্যোগ আরও বাড়ানোর দাবি জানান। উপকারভোগী মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বিলে মাছ কমে গিয়েছিল। সরকারি পোনা পেয়ে আমরা আবার আশা দেখছি।” আরেক উপকারভোগী আব্দুল ওহাব বলেন, “বছরে অন্তত দুইবার এমন পোনা ছাড়া উচিত। তাহলে বিলগুলো মাছে ভরে যাবে।” সাইদ ইকবাল বলেন, “পোনা তো দিলেন, কিন্তু কেউ যেন ধরে নষ্ট করতে না পারে সেটাও দেখতে হবে।”

উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই রাজস্ব বাজেট থেকে এই পোনা কেনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে। পোনা রক্ষায় স্থানীয়দেরও সচেতন হতে হবে।” জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “অভ্যন্তরীণ জলাশয়গুলোতে নিয়মিত পোনা অবমুক্ত করলে একদিকে যেমন আমিষের ঘাটতি কমবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানও বাড়বে।” প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী কমিশনার ভূমি নাভিদ সারওয়ার বলেন, “সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারলেই এই প্রকল্প সফল হবে। জলাশয় দখল ও পোনা নিধন বন্ধে প্রশাসন কঠোর থাকবে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর