কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে শঙ্কা মাথায় নিয়ে পরিষদে ফিরলেন চেয়ারম্যান

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কার্যালয়ে এখনও ঝুলছে তালা। রয়েছে প্রতিপক্ষের হামলার শঙ্কা। তবুও জনগণের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় তিন দিন পরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ৮ নম্বর যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদে ফিরেছেন চেয়ারম্যান। সচিবের কক্ষে বসেই দিচ্ছেন নাগরিক সেবা। এতে স্বস্তি ফিরেছে জনমনে। ব্যাপক খুশি সেবা প্রত্যাশীরা। গতকাল বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চেয়ারম্যান কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। পরিষদের বারান্দায় বসে ভিড় করেছেন সেবা প্রত্যাশীরা। সচিবের কক্ষে বসে প্রয়োজনীয় কাগজে সাক্ষর করছেন চেয়ারম্যান। এসময় জোতমোড়া গ্রামের রবিন আহমেদ বলেন, ছেলে জন্মনিবন্ধনের বানান ভুল করতে এসে দুদিন ফিরে গেছি। তবে আজ (বুধবার) চেয়ারম্যান থাকায় সেটি করতে পেরেছি।

যদুবয়রা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক ও পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। হামলা ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা রয়েছে। তবুও জনগণের কথা চিন্তা করে পরিষদে সেবা দিচ্ছেন তিনি। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শনিবার রাতে যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ছাত্রলীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কেক কেটে বিভিন্ন শ্লোগান দেওয়া হয়। ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানার নেতৃত্বে এই কেক কাটা হয়। পরে কেক কাটার ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদে ইউনিয়ন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাতেই চেয়ারম্যান কার্যালয়ে তালা দেন। তারপর গত রোববার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করে পরিষদ থেকে সচিব, গ্রাম পুলিশ ও সেবা প্রত্যাশীদের বের করে দিয়ে পরিষদ ভবনের প্রধান ফটকের গেটে তালা লাগিয়ে দেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এরপর খবর পেয়ে গত সোমবার দুপুরে পরিষদ চত্বরে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন থানার ওসি মো. সোলায়মান শেখ। বৈঠক শেষে তালা খুলে দেন নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, কয়েকদিনে মানুষের চরম ভোগান্তি হয়েছে। তবে এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান তিনি। যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রেজাউল ইসলাম বলেন, আজ অন্তত ৩০ জনকে সেবা দেওয়া হয়েছে। তবে চলমান পরিস্থিতির কারণে পরিষদে মানুষের উপস্থিতি কম। যদুবয়রা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম আসাদ বলেন, পরিষদে চেয়ারম্যান আসার খবরটি শুনেছি। কিন্তু প্রশাসনের সঙ্গে এমনটা কথা ছিলোনা। বিষয়টি নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসনের সঙ্গে ফের যোগাযোগ করা হবে। পরিষদে সেবা চলছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম। তিনি বলেন, পরিষদের ঘটনায় দুইটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেগুলো তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags :

Desk Reporter

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর