কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে মনোমুগ্ধকর মনুমেন্ট আলোকিত মাধবী

মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী ॥ গড়াই নদীর কূলঘেঁষে ১৮৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কুষ্টিয়ার প্রথম শ্রেণির কুমারখালী পৌরসভা। পৌরভবন থেকে প্রায় ৪০০ মিটার পূর্বে কুমারখালী-যদুবয়রা সংযোগ সেতু। এই সেতুটি ইতোমধ্যে বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সেতুর উত্তর পাশে তিন রাস্তার মোড়ে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতা ও ১৩ ফুট ডায়ার একটি দৃষ্টিনন্দন মনুমেন্ট ও পানির ফোয়ারা। আরজিবি ফিতার আলোকসজ্জায় সৌন্দর্য বেড়েছে বহুগুণ। সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতারের পরিকল্পনায় এর নামকরণ করা হয়েছে ‘আলোকিত মাধবী’।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, দৃষ্টিনন্দন আলোকিত মাধবী মুগ্ধ করছে সব বয়সী মানুষকে। সংস্কৃতির জনপদ কুমারখালীতে এটি বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। দিনে ও রাতে সমানভাবে সৌন্দর্য ছড়িয়ে পথচারীদের আকৃষ্ট করছে এটি।

 

জানা গেছে, সড়কে নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও বিনোদনের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপির অর্থায়নে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে কুমারখালী গোলচত্বরে একটি দৃষ্টিনন্দন স্ট্রিট লাইট এবং যদুবয়রা সেতুর উত্তর পাশে এই মনুমেন্ট ও ফোয়ারা নির্মাণ করে পৌর কর্তৃপক্ষ। যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ছিলেন সাবেক পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার। গত ৪ অক্টোবর তিনি এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করেন। এর পর থেকেই বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই সেখানে ভিড় করেন বিনোদনপ্রেমীরা।

 

এটির নকশা ও কারুকাজ বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম বলে দাবি করেন পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী এস এম সামরুজ্জামান। তিনি বলেন, “ঐতিহ্যবাহী পৌরসভার সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সেতু এলাকায় রাতে নিরাপত্তা বাড়াতে সাবেক পৌর প্রশাসক মনুমেন্ট ও ফোয়ারা নির্মাণ করেছেন। এতে মুগ্ধ সকলেই।”

 

সোমবার সন্ধ্যার পর সরেজমিনে দেখা যায়, গড়াই নদীর ওপর নির্মিত কুমারখালী-যদুবয়রা সেতুর উত্তর পাশের তিন রাস্তার মোড়ে দর্শনার্থীদের মিলনমেলা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও ধারণ করছেন, কেউবা সেলফি তুলতে ব্যস্ত।

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, “সেতু এলাকায় নতুন বিনোদন যোগ করেছে এই ফোয়ারা। প্রতিদিনই মানুষ একনজর দেখতে ছুটে আসেন।”

 

স্কুল শিক্ষক দ্বিপংকর বিশ্বাস বলেন, “কুমারখালীর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর স্থাপনা আলোকিত মাধবী। পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। খুব ভালো লাগছে।”

 

স্থানীয় চটপটি বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, “৪ অক্টোবর উদ্বোধনের পর থেকে মানুষের আনাগোনা কয়েকগুণ বেড়েছে। দর্শনার্থী বাড়ায় বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে।”

 

স্থানীয় বাসিন্দা রজন শেখ বলেন, “পানির ফোয়ারা ও ঝলমলে আলো দেখতে প্রতিদিনই মানুষ ভিড় করছেন। এখানে আসলেই সারাদিনের দুঃখ-কষ্ট ভুলে যায় মানুষ। সেতুর দক্ষিণ পাশেও আরেকটি হলে আরও ভালো হতো।”

 

এ বিষয়ে নবাগত ইউএনও ও পৌর প্রশাসক মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, “বিনোদন ও নিরাপত্তার স্বার্থে সেতু এলাকায় এই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন প্রহরী নিয়োগ করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সাংস্কৃতিক নগরী কুমারখালীতে আরও সুন্দর স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর