ঢাকা অফিস ॥ মানিকগঞ্জে কাস্টমসের বিশেষ অভিযানে কুষ্টিয়ার বেঙ্গল ও ফ্লাশ ব্যান্ডের ১ লাখ ৬২ হাজার শলাকা জাল ব্যান্ডরোল দিয়ে তৈরি নকল সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। এতে প্রায় ৮ লাখ টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মানিকগঞ্জ কাস্টমসের সহকারী পরিচালক সাঈদ হাসান তাহেরের নেতৃত্বে গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ গড়পাড়া এলাকার বাংলাদেশ হাট নামক স্থানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জব্দ করা সিগারেটের মধ্যে রয়েছে বেঙ্গল স্পেশাল ফিল্টার ব্র্যান্ডের ১ লাখ ৫৩ হাজার শলাকা এবং ফ্লাশ স্পেশাল ফিল্টার ব্র্যান্ডের ৯ হাজার শলাকা।
একাধিক সুত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া থেকে এসব রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া বেঙ্গল লীফ টোব্যাকোর ও গোল্ডেন বেঙ্গল লীফ টোব্যাকোর থেকে তৈরি হওয়া সিগারেট দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারজাত করা হচ্ছে।
বেঙ্গল লীফ টোব্যাকোর সত্তাধিকারী মো. আতিয়ার রহমানের পরিচালনায় এই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যবসা চলছে দীর্ঘ দিন ধরে। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সিগারেট তৈরি করা ছাড়াও বেঙ্গল টোব্যাকোতে অবৈধভাবে কাঁচা তামাক (র টোব্যাকো) ও প্রসেস টোব্যাকো স্টোর করা হয়। পরে এসব তামাক অবৈধভাবে যারা সিগারেট তৈরি করে তাদের কাছে বিক্রি করা হয় । এই বিক্রির প্রক্রিয়া পুরোটাই ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাথে করে একাধিকবার বেঙ্গল টোব্যাকো কোম্পানীতে অভিযান পরিচালনা করে জেল জরিমানাও করা হয়েছে। তবুও এই ব্যবসা থেমে নেই টোব্যাকোর সত্তাধিকারী আতিয়ার রহমানের। প্রশাসনের নজরদারির পর এই ব্যবসার নতুন রুট হিসেবে কাজ চলছে কুষ্টিয়া শহরের জুগিয়া কদমতলা এলাকায় অবস্থিত বেঙ্গল লীফ টোব্যাকো, মিরপুরের কেউপুরে অবস্থিত গোল্ডেন বেঙ্গল লীফ বেঙ্গল টোব্যাকো ও খোকসায় অবস্থিত জজজম লীফ বেঙ্গল টোব্যাকো।
এসব ফ্যাক্টরিতে রাতের আধারে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে জাল স্টাম্পের ব্যান্ডরোল দিয়ে সিগারেট তৈরি করা হয় বলে গোপন সংবাদ সুত্রে জানা গেছে।
সিগারেট জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে মানিকগঞ্জ কাস্টমসের সহকারী পরিচালক সাঈদ হাসান তাহের সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের কর্মকর্তাদের নিয়ে অভিযান চালায়। চালান বিহীন ও মালিকবিহীনভাবে আমরা বেঙ্গল ও ফ্লাশ ব্যান্ডের সিগারেট জব্দ করি। পরবর্তী আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।









