খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ১:২৭ এএম

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই গণহত্যার বিচার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শাখা ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিলে বহিরাগতদের উপস্থিতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে এটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে গিয়ে সমাবেশে শেষ হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বহিরাগতদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের ভাদালিয়া, পোড়াদহ, লক্ষ্মীপুর ও শেখপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। মিছিলে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, তারা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। তারা মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করেন এবং শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় মিছিলে অংশ নিতে এসেছেন। আবার কেউ কেউ দাবি করেন, ক্যাম্পাসে ঘুরতে এসে মিছিলে যোগ দিয়েছেন।
ভাদালিয়া থেকে আসা এক কর্মী বলেন, “আমি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে পড়ি। এখানে জামায়াত-শিবির জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করছে। আন্দোলনে আমিও আসছি।” শিবিরের এক কর্মী বলেন, “আজকে ঘুরতে আসছি। এতো বড় মিছিল কখনো করা হয়নি। তো ভালো লাগা থেকে মিছিলে যোগ দিছি।” এদিকে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ।
আমাদের নিরাপত্তার জন্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ। কিন্তু যারা শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনা করবে, শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে কাজ করবে, তারাই যদি ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশের সুযোগ করে দেয়, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকে। এ বিষয়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “আমাদের আন্দোলনের ব্যানারেই স্পষ্ট আজকের কর্মসূচিটা কাদের।
এছাড়া, আমাদের পেইজেও এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা আছে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্টোকহোল্ডারসহ যারা জুলাই আন্দোলনের অংশীদার তাদেরকে আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান করা হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না এমন গুটি কয়েক মানুষ আন্দোলনে শামিল হয়েছে। এখানে প্রশাসন থেকে যদি কার্ড আছে কিনা এটি পর্যবেক্ষণ করতো তাহলে আরো সহজ হতো।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক শাহীনুজ্জামান বলেন, “ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে আজকের মিছিলে বহিরাগত প্রবেশ করেছে কি না নিরাপত্তাকর্মীরাও এ বিষয়ে আমাকে অবগত করেনি। দলবেঁধে কেউ ঢুকলে তাদের আইডেন্টিফাই করা কঠিন। এ বিষয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলব।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য