বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহত শিক্ষিকার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান তাঁদের চার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হন। মানববন্ধনে ইমতিয়াজ সুলতান তাঁর সন্তান তাইবা (৯), তাবাসসুম (৭), সাজিদ (৫) ও ১২ মাস বয়সী আয়েশাকে বুকে জড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রী হত্যার বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, রমজানের দিনে ইফতারের আগ মুহূর্তে নৃশংসভাবে তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। আহাজারি করতে করতে তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রীকে দিনের পর দিন মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে এবং তিনি ফোনে এসব বিষয় জানাতেন।
কিন্তু তাঁকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় মামলার আসামি সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মানববন্ধনে নিহত শিক্ষিকার বাবা শ. ম. আশিকুল হকসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা। উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেলে নিজ দপ্তরে ছুরিকাঘাতে নিহত হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজ গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফজলুর রহমানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
