মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল ইসলামের একক নিয়ন্ত্রণ ও স্বেচ্ছাচারিতায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার পদে যুবলীগ ও আওয়ামীলীগ ঘনিষ্ঠরা ব্যাপক স্থান পেয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি জামায়াতের কট্টর সমর্থক ব্যাক্তিরাই সিংহভাগ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে নির্বাচনের ফলাফল একটি বিশেষ দলের পক্ষে প্রভাবিত হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন অন্যান্য দলের সমর্থকবৃন্দ।
সরেজমিনে দেখা যায় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বলিদাপাড়া বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নাজমুল ইসলাম খান, একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা বারুইপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোমিনের সহধর্মিনী ইরিনা হক, সুলতানপুর আলিম মাদ্রাসায় কর্মরত প্রয়াত যুবলীগ নেতা হীরক জোয়াদ্দারের স্ত্রী ল্যাব সহকারী ডালিয়া ফেরদৌস, আওয়ামীপন্থি বাংলা প্রভাষক শেফালী পারভিন, আওয়ামীপন্থি আইসিটি সহকারী হাসানুজ্জামান রাসেল, আওয়ামীপন্থি ইংরেজি প্রভাষক আলম আলী, বিএনপিপন্থি সহকারী শিক্ষক ইদ্রিস আলী, জামায়াত সমর্থিত মৌলভী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ক্বারী হুজুর আব্দুর রাজ্জাক, লাইব্রেরিয়ান সফর গণি, মৌলভী শিক্ষক মুসলিমা খাতুন সহ বেশ কয়েকজন নির্বাচনী দায়িত্ব পেয়েছেন।
উপজেলার সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সমর্থক হিসেবে তারা নির্বাচনী দায়িত্ব পাওয়া অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কথা। এদিকে মিরপুর নাজমুল উলুম সিদ্দিকিয়া ফাযিল মাদ্রাসার আবুল বাশার নামে একজন নির্বাচনী দায়িত্ব পেয়েছেন যিনি মিরপুর পৌর আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। একই মাদ্রাসার হাসান আলী নামে আরেকজন নির্বাচনী দায়িত্ব পেয়েছেন, যিনি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দাড়িপাল্লা প্রতীকের সরাসরি ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি (হাসান আলী) জামায়াতের কট্টর কর্মী বলে একাধিক সুত্র থেকে জানা গেছে।
এব্যাপারে মোবাইল ফোনে উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল ইসলামের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবুল কালাম আজাদ জানান, এসব ব্যাপারে আমাদের মতামত ব্যক্ত করা নিষেধ রয়েছে। বক্তব্য’র প্রয়োজন হলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার কথা জানানো হয়। কুষ্টিয়া-২ আসনের মিরপুর উপজেলার সাধারণ ভোটাররা মনে করেন, দীর্ঘ দিনের প্রতিক্ষিত অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার স্বার্থে তদন্ত সাপেক্ষে এসকল বিতর্কিত প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেয়া উচিৎ। তা না হলে গণমানুষের বহু কাঙ্খিত নির্বাচন প্রশন্নবিদ্ধ হতে পারে বলে তারা আশা করেন।
