কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা আব্দুর রাজ্জাক বাদশার (৪৮) জানাজা শেষে দাফন কার্য সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দয়রামপুর কবরস্থানে মরদেহটি দাফন করা হয়। নিহত বাদশা উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামের হাচেন আলীর ছেলে। এছাড়াও তিনি কুমারখালী বাসস্টান্ড সংলগ্ন গোলচত্বর এলাকার আল-মদিনা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন।
এ দিকে বাদশার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছে বাতাস। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে জানাজায় কুষ্টিয়া ৪ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আনোয়ার খাঁন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের প্রার্থী মো. আফজাল হোসাইন, স্বজন, প্রতিবেশীসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে কুষ্টিয়া – রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালিয়ে একজন আরোহীসহ বাদশা কুষ্টিয়া ৪ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আনোয়ার খাঁনের বাড়ি খোকসাতে যাচ্ছিলেন। আর একটি আলুবাহী মিনিট্রাকও খোকসার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে রাত ১০টার দিকে কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের ফুলতলা এলাকায় বাদশা ট্রাকটিকে ওভার টেক করার চেষ্টা করেন এবং সড়কে ছিটকে পড়েন। তখন ট্রাকটি চাপা দিয়ে চলে যায়।
এতে ঘটনাস্থলেই বাদশার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তাঁর সহযোগী মুফতি খাইরুল ইসলাম বাশার আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আনোয়ার খাঁন বলেন, দুর্ঘটনা কিছুক্ষণ আগে তাঁর সঙ্গে বাদশার কথা হয়েছিল। তিনি দেখা করে কিছু বলতে চেয়েছিলেন। পরে শুনতে পাই বাদশা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে।
নিহত বাদশার ছেলে রাজু আহমেদ বলেন, তাঁর বাবা ব্যবসায়ের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রাতে হাতপাখা প্রার্থীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে ঘাতক গাড়িটির সন্ধান পাওয়া যায়নি এখনও। কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. আবু ওয়াহেদ মুঠোফোনে বলেন, ওভারটেক করতে গিয়ে সিটকে পড়ে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে ঘাতক ট্রাকটিকে সনাক্ত করা যায়নি।
