গড়াই নদীতে পানি কমার সঙ্গে-সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

গড়াই নদীতে পানি কমার সঙ্গে-সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন  

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫

মোশারফ হোসেন ॥ কুষ্টিয়া কুমারখালীতে গড়াই নদীতে পানি কমার সঙ্গে-সঙ্গে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আতঙ্কে রয়েছে নদী পাড়ের মানুষ। এই অঞ্চলে পূর্বের নদীভাঙনের পর যেটুক ভূমি ছিল, সেটুকুও এবার ভাঙনের আশঙ্কায় চরম হতাশার দিন পার করছেন নদীপাড়ের শত শত ভাঙন-কবলিত মানুষ। কুমারখালী পৌরসভার তেবাড়িয়া ও আগ্রাকুন্ডু এলাকায় প্রায় ১ কিলোমিটার নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় বহু মানুষ। ভাঙনরোধে নেওয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় নদী পাড়ে এমন ভাঙ্গন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

যথা সময় ব্যবস্থা নিলে নদী ভাঙন রোধ করা সম্ভব। গতকাল বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পৌর এলাকার তেবাড়িয়া ও আগ্রাকুন্ডু গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, গ্রামের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফসলিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এরি মধ্যে। এবার স্থানীয়রা ভুট্টা, তিল, বাদাম, সহ অন্যান্য ফসল চাষাবাদ করেছিল। হঠাৎ এক সপ্তাহ ধরে তীব্র নদী ভাঙ্গনে ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আগ্রাকুন্ডু গ্রামের কৃষক সেইমান শেষ বলেন , নদী ভাঙনের ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে, এখন বসতবাড়ি নিয়ে শঙ্কায় আছি আমরা। ভাঙ্গনের ফলে দিশাহারা  হয়ে পড়ছেন নদীপাড়ের মানুষ। এই বিষয়ে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন ব্যবস্থা নেয়নি। অতিসত্বর যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় আমাদের কিছুই থাকবে না। তেবাড়িয়া গ্রামের সমীর চাকী বলেন, যে ভাবে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

তাতে পাকা ও আধ পাকা ঘরবাড়ি সড়ক, মসজিদ-মন্দির, ছোট-বড় নানা স্থাপনা ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। এরি মধ্যে অনেক ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদী ভাঙ্গনের ফলে খুব কষ্টে আছি। ঘর ভেঙে গেলে আমি  কই যাব।’আঁচল দিয়ে চোঁখের পানি মুছতে মুছতে কথাগুলো বলছিলেন নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সত্তরোর্ধ্ব ফুলমতি বেগম। স্থানীয়রা জানান, নদীতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পানি কমছে। পানি কমার ফলে ভাঙনও দেখা দিয়েছে। কিন্তু ভাঙনরোধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি যতদ্রুত সম্ভব ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

তা না হলে ফসলিজমির সঙ্গে তাদের ঘরবাড়িও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ফারজানা আক্তার বলেন, এই বিষয়ে আমার তেমন কিছুই করার নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। কুষ্টিয়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম জানান, নদীভাঙনের স্থান থেকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মিটার নিকটে ঘরবাড়ি রয়েছে। সুতরাং এলাকাটি মনিটরিং করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস্থলের ছবিসহ বিস্তারিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তাদের অনুমতি পেলে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার প্রকল্প নেওয়া হবে।