দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে ধানের শীষের বিকল্প নেই: প্রকৌশলী জাকির সরকার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে ধানের শীষের বিকল্প নেই: প্রকৌশলী জাকির সরকার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ২৬, ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া-৩ আসনের অন্তর্গত আলামপুর ইউনিয়নে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী ও জেলা বিএনপি সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার এর নির্বাচনী প্রচারণা সম্পর্কিত জনসভার আয়োজন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ৪ টার দিকে আলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে দহকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন জেলা বিএনপি আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপি সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আরিফুল ইসলাম মোস্তাক ও পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব ওলি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন মুরাদ, জেলা বিএনপি সদস্য শহিদুজ্জামান খোকন, আবু তালেব ও আব্দুল মঈদ বাবুল এবং সাবেক কোষাধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন প্রধান, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক মুন্সী নজরুল ইসলাম, জেলা কৃষক দলের আহবায়ক আরিফুর রহমান সুমন ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, জেলা ছাত্র দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জব্বার মিলন, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক শাহনেওয়াজ সুমন, সদর উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক খন্দকার মোমিনুল ইসলাম কাজিম, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক শফি উদ্দিন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন আলামপুর ইউনিয়ন বিএনপি সার্চ কমিটির সাবেক সদস্য মাহবুব আলম প্রমূখ।

এসময় জেলা বিএনপি আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, আপনারা জানেন দীর্ঘ সময় জবরদস্তি শাসনের মাধ্যমে জেকে বসা ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। একটা রাজনৈতিক শূন্যতা আছে, নিয়ম তান্ত্রিক সরকারের অভাব আছে। এই সময়ে আমরা একটা প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছি। আশায় বুক বেধেছি, যে ১৫ টা বছর বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে আনন্দের এবং প্রিয় যে ভোটাধিকার, যার থেকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী দোসররা, আওয়ামী শক্তিরা মানুষকে বঞ্চিত করেছিলো, সেই নির্বাচন আমাদের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে।

নির্বাচনটা গুরুত্বপূর্ণ, যে নির্বাচনের মাধ্যমে পচ্ছন্দ মতো তাদের ইচ্ছার একটা প্রতিফলন ঘটবে এবং সেই প্রতিফলনের মাধ্যমে একটি দল ব্যক্তিগোষ্ঠী সরকার গঠন করবে এবং বাংলাদেশ একটি গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ফিরে আসবে। নির্বাচনের গুরুত্ব অনুধাবন করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মানুষের ভোটের প্রতি অনিহা আছে, দীর্ঘদিন মানুষ ভোট সেন্টারে যেতে পারিনি। যারা যাওয়ার চেষ্টা করেছে তাদের হাত থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে সিল মেরে দেওয়া হয়েছে অথবা মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভিন্নমতকারী তকমা দিয়ে।

দীর্ঘ তিনটি নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে কায়েম করায় ভোট কি জিনিস মানুষ জানে না। আমরা বিশ্বাস করি আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হলে জনগণ ধানের শীষের পক্ষে রায় দিবে। কারন দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ক্ষমতায় থেকে উন্নয়নের নামে দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে, দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। ভেঙে পড়া দেশটাকে সংস্কার করতে নির্বাচিত সরকার দরকার। আমাদের নেতা দেশ নায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে বিএনপি ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচিতে জনগণের দাবি পূরনের কথা তুলে ধরা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং তাদের সকল দাবি পূরণে আমরা কাজ করবো। কুষ্টিয়ার উন্নয়নে জাকির সরকারের বিকল্প নেই, তাই সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের জন্য কাজ করুন।

এছাড়া কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে ধানের শীষের কান্ডারি প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, বিগত ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামের পরে দেশে একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনের পটভূমি তৈরি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ফেব্রয়ারি মাসে এ দেশে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আপনারা জানেন বিগত ১৭ বছর এ দেশে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। পতন হওয়া আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকার বিগত তিনটি নির্বাচনে দেশের মানুষকে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেয়নি। আওয়ামী লীগের এই আচরন নতুন নয়। যতবারই আওয়ামী লীগ এদেশে ক্ষমতায় এসেছে প্রত্যকটিবার তারা গনতন্ত্রকে হত্যা করেছে, দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও প্রতিষ্ঠানকে হত্যা করেছে।

স্বাধীনতার পরে এ দেশে আওয়ামী লীগ সরকার অধিষ্ঠিত হয়েছিলো, তখন তারা এ দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছিলো, সমস্ত পেপার পত্রিকা নিষিদ্ধ করেছিলো এবং ব্যবসা বানিজ্যিকে সংকুচিত করেছিলো। আপনারা জানেন আমাদের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা করেছিলেন। ১৯৭১ সালে সেদিন রাজনৈতিক নেতারা স্বাধীনতার ঘোষণা করেনি বরং তারা স্বাধীনতা ঘোষণার নায়ক হয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলো এবং অনেকে পালিয়ে গিয়েছিলো।

দেশের সেই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলো তাই নয়, স্বাধীনতা ঘোষণা করে তিনি অস্ত্র হাতে নিয়ে এদেশের মানুষকে সাথে করে উনি দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। জিয়াউর রহমানের অবদান ভুলে গেলে চলবে না। তাই আমরা যারা বাংলাদেশ জাতীয়বাদী আদর্শে বিশ্বাসী তারা এক হলে আগামী নির্বাচনে দেশ নায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পাবে। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে ধানের শীষের বিকল্প নেই।