কুষ্টিয়া আদালত চত্বরে বাল্যবিবাহের মহোৎসব - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া আদালত চত্বরে বাল্যবিবাহের মহোৎসব 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ১৯, ২০২৬

আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলা আদালত চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে বাল্যবিবাহ সম্পাদনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনই আদালত প্রাঙ্গণে ঐ আইনজীবীর ব্যক্তিগত চেম্বারে ৫ থেকে ৬টি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হচ্ছে, যা দেশের প্রচলিত আইনকে প্রকাশ্যে লঙ্ঘন করছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ঐ আইনজীবীর নাম জাকির হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অর্থের বিনিময়ে এসব বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করে আসছেন। গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে তার চেম্বারে একটি বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করার সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের কারোরই বয়স আইনসম্মত হয়নি।

তারা জানায়, বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে তারা ওই আইনজীবীর কাছে আসে এবং প্রায় ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণরূপে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে অভিযুক্ত আইনজীবীর লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে আরও জানা গেছে, আইনজীবী জাকির হোসেন তার সহকারী খালিদ মাহাবুবের মাধ্যমে এসব বাল্যবিবাহ পরিচালনা করে থাকেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আদালত চত্বরের মতো সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে তা বিচারব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারে।

তারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রচলিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী নির্ধারিত বয়সের আগে বিবাহ সম্পাদন, সহায়তা বা উৎসাহ প্রদান—সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবুও নানা উপায়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে, যা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।