রঞ্জুউর রহমান ॥ কুষ্টিয়ায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে যাথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৪ পালিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল দশটা কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের হলরুমে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৪ পালন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় কুষ্টিয়া প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব উদ্দিন, জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ মো. আকুল উদ্দিন, কুষ্টিয়া জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুন্সী কামরুজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সভায় বক্তারা বলেন, ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামের শেষলগ্নে বাঙালি যখন চূড়ান্ত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা মেতে ওঠে দেশের বুদ্ধিজীবীদের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞে। বিজয়ের চূড়ান্ত মুহূর্তে বাঙালি মেধার সে নৃশংস নিধনযজ্ঞ গোটা বিশ্বকে হতবিহ্বল করে তোলে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাত্র দু’দিন আগে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে ঘাতকচক্র কেবল ঢাকা শহরেই প্রায় দেড়শ বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন পেশার মানুষকে চোখ বেঁধে অপহরণ করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত স্থানে। সান্ধ্য আইনের মধ্যে সেই রাতে তালিকা ধরে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী ও পদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হত্যা করে ফেলে রাখা হয় নিস্তব্ধ, ভূতুড়ে অন্ধকারে। তারপর থেকে ১৪ ডিসেম্বরকে বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে স্মরণ করা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি যেকোনো দিবস পালন হয় দুটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। সেই দিবস সম্পর্কে আমরা সবাইকে জানায় এবং সেই দিবস সম্পর্কে জানার পর আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অবগত করা। ১৯৭১ মহান মুক্তিযোদ্ধের সময় অগণিত মানুষ শহীদ হন। মা-বোনের ইজ্জতের ও রক্তের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বমোট ১০৭০ জন বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছে। পাক-হানাদার বাহিনীর বুদ্ধিজীবী হত্যার উদ্দেশ্য ছিলো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া। শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড আর মেরুদন্ড ভেঙে দিলে একটি জাতি কখনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবেনা। এদেশের মানুষ কখনো কোন অন্যায়কে মেনে নেয়নি। আমরা সর্বশেষ জুলাই আগস্ট এর বিপ্লব দেখেছি। তাই শিশুদের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে তা না হলে আমরা ভবিষ্যৎ গড়তে পারবো না।
