রঞ্জুউর রহমান ॥ কুষ্টিয়া সুগার মিল চালুকরণের লক্ষ্যে ইক্ষু রোপন কার্য়ক্রমর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১১টায় সুগার মিলস গেট এলাকায় এই সভার আয়োজন করে কুষ্টিয়া সুগার মিল চালুকরণ ও ইক্ষু রোপণ কার্যক্রম পরিষদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক ও আহ্বায়ক আব্দুল মাজেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবং উক্ত পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তারুজ্জামান কাজল, জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মিরাজুল ইসলাম রিন্টু, জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মেজবাউর রহমান পিন্টু এবং কুষ্টিয়া পৌর ২০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কুষ্টিয়া পৌর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিষদের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান শিপন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপি সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া সুগার মিলন চলুকরণ ও ইক্ষু রোপন কার্যক্রম পরিষদ এর প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, কুষ্টিয়া সুগার মিল আমাদের কুষ্টিয়াবাসীর আবেগ, ইতিহাস ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান। গত ৫ আগস্টের পর আমরা মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আখ চাষীদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছি। সবারই প্রত্যাশা, মিলটি পুনরায় চালু হোক।
এক সময় এই অঞ্চলে ১৫টি মিল থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৯টি চালু আছে, বাকি ৬টি শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তখন মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলে তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মিল এলাকায় পর্যাপ্ত আখ চাষ নিশ্চিত করা গেলে মিল চালু করা সম্ভব।পূর্বে প্রয়োজনীয় আখের ঘাটতির কারণে মিল চালু করা যায়নি। তবে আশার কথা হলো, বর্তমানে এই মিল এলাকায় প্রায় ২ হাজার একর জমিতে আনুমানিক ৪০ হাজার মেট্রিক টন আখ চাষ হচ্ছে।
মিল চালুর জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আখ। অর্থাৎ, আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে বাকি ৩০ হাজার মেট্রিক টন আখ উৎপাদন করা কঠিন কিছু নয়।এই মিল পুনরায় চালু হলে কেবল একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানই চালু হবে না। বরং এ অঞ্চলের কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। এর সুফল শুধু চিনির উৎপাদনে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এর মূল্য হবে আরও অনেক বেশি। আমাদের মনে রাখতে হবে, সরকার কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়, সরকারের প্রধান লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ ও জীবনমানের উন্নয়ন।
