নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য মেহেদী হাসান সাগর (সাকবর) এর ১ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৬ অক্টোবর) সকালে মহিষকুন্ডি ফুটবল মাঠে এ সভার আয়োজন করে কুষ্টিয়া জেলা কৃষক দল। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার।
কৃষক দল নেতা প্রয়াত মেহেদী হাসান সাগর (সাকবর) এর সহধর্মীনী সুমাইয়া আক্তার কাজলী’র সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্যে রাখেন উপজেলা ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আলতাব হোসেন, সাধারন সম্পাদক শহিদ উদ্দিন সরকার মঙ্গল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক সম্পাদক আল নাহিয়ান সজিব, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাত, উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম বিশ্বাস, বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন, জুলফিকার ভুট্টো, জিল্লুর রহমান জনি, আব্দুল মাজেদ প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, বিগত ২০২৩ সালের ২৫শে অক্টোবর খুনি হাসিনা সরকারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনীর নির্যাতনে কৃষকদল নেতা শাহাদাত বরণ করেছিল। ২০২৩ সালে যখন সৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চলছিল এই আন্দোলনকে নষ্ট করার জন্য পুলিশের পেটুয়া বাহিনী তাকে হত্যা করেছিল। আজকে যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে আমি মনে করি সাকবর ভাইয়ের রক্তের বিনিময়ে এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। শাকবর হত্যার সাথে যারা জড়িত তাদের বিচার হতেই হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার উপস্থিত নেতা কর্মিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা জানেন বিগত ২০২৩ এর ২ শে অক্টোবর খুনি হাসিনা সরকারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনীর নির্যাতনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কুষ্টিয়া জেলা শাখার অন্যতম নেতা মেহেদী হাসান সাকবর শাহাদৎবরণ করেছিলো।
২০২৩ সালে যখন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে উঠেছিলো সেই আন্দোলনকে ধূলিস্মাৎ করার জন্য, বন্ধ করার জন্য পুলিশ বাহিনী সেদিন যে ন্যাক্কারজনক ভূমিকা নিয়েছিলো তারই ফলশ্রুতিতে সাকবরকে শাহাদৎবরণ করতে হয়েছিলো। আজকে আমাদের মুক্ত বাতাসে যে সভা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা সাকবর ভায়ের রক্তের বিনিময়ে। তাই সাকবর ভায়ের হত্যাকান্ডের বিচার এই বাংলার মাটিতে অবশ্যই হবে। সাকবরের হত্যাকান্ডের মামলা কেন এখনও হয়নি প্রশ্ন রেখে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, সাত দিনের মধ্যে এই মামলা হতে হবে। তাতে যদি পুলিশ বা প্রশাসন বাধা দিলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। সাকবর হত্যার বিচার হতেই হবে, আসামীকে সাজা পেতেই হবে। নিহত কৃষকদলের নেতা সাকবরের স্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে জাকির হোসেন সরকার বলেন,
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আপনার পরিবারের পাশে থাকবে। শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, রাজনৈতিক ভাবেও আপনার পরিবারের পাশে থাকবে। সাকবরের পরিবার যাতে রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সেই ব্যাপারে আমরা সহযোগিতাও করবো। উপস্থিত নেতা কর্মিদের উদ্দেশ্যে জাকির হোসেন সরকার বলেন, আপনারা ইতিমধ্যে দেখেছেন এই কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন জায়গায় এই স্বৈরাচরের প্রেতাত্নারা এখনও আছে। স্বৈরাচারী হাসিনা পালিয়ে গেছেন, কিন্তু তার প্রেতাত্নারা এখনও বিভিন্ন পাড়ায়-মহল্লায় লুকিয়ে আছে। তারা সুযোগ পেলেই সাপের মত ফনা তুলছে। যে ঘটনা এই দৌলতপুরেও ঘটেছে। আমাদের নেতা কর্মিরা কোন ধরণের বিশৃঙ্খলার সাথে জড়িন নয়। বিশৃঙ্খলার সাথে জড়িত ঐ স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার প্রেতাত্নারা। তারা আমাদের নেতা কর্মিদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন ভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। উপস্থিত নেতা কর্মিদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আপনারা সজাগ দৃষ্টি রাখবেন। এই প্রেতাত্নারা যদি আবার কোনভাবে ফনা তুলতে চায়, হাত দিয়ে তাদের সাপের মাথা ছিড়ে ফেলে দিতে হবে।
