বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ ও তার চাচাতো ভাই সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা সহ ২৬ জনের নামে আরেকটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। চলতি মাসের ২২ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা, পৌর কাউন্সিলরের ৩ পুত্র, পলাতক সাংবাদিক, জেলা পরিষদ সদস্যসহ অনেকেই রয়েছেন।
এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- ১। মোঃ মাহবুবুল আলম হানিফ (৬৫), সাবেক এমপি, পিতা-মৃত আফসার আলী, সাং-পিটিআই রোড, কুষ্টিয়া ২। আতাউর রহমান আতা (৪৫), উপজেলা চেয়ারম্যান, কুষ্টিয়া ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, পিতা- আব্দুস সাত্তার প্রামানিক, সাং-পিটিআই রোড, কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া ৩। অজয় সুরেখা, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ, পিতাঃ মৃত মনতুরাম সুরেখা, সাং-রাজারহাট, আডুয়াপাড়া, কুষ্টিয়া ৪। অনুপ কুমার নন্দী (৫০), কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি, পিতাঃ অজ্ঞাত, সাং-আমলাপাড়া, কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া
৫। মোঃ জহুরুল ইসলাম (৬০), পিতা: মৃত: বাহার আলী, গ্রাম। রাধানগর, ইবি, কুষ্টিয়া ৬। কাবিল শেখ (৫৫), সভাপতি ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ মনোহরদিয়া ইউনিয়ন, পিতা: ইসলাম, গ্রামঃ কন্দর্পদিয়া, মনোহরদিয়া, ইবি, কুষ্টিয়া ৭। ইখলাস ডাক্তার(৫৫), সাধারণ সম্পাদক মনোহরদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, পিতা: মৃত.আকবার, গ্রামঃ কন্দপদিয়া, মনোহরদিয়া, ইবি, কুষ্টিয়া ৮। হাবিব মন্ডল, পিতাঃ মৃত. ইয়াকুল মন্ডল, সাং-বড়ীয়া ইউনিয়নঃ বটতৈল, কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া ৯। আমিরুল মেম্বার, পিতাঃ মৃত কুদরত মন্ডল, সাং-বড়ীয়া ইউনিয়নঃ বটতৈল, কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া
১০। হাফিজুর রহমান, পিতাঃ আজিবর মাস্টার সাং-পশ্চিম আবদালপুর, থানাঃ ইবি, কুষ্টিয়া ১০। মোঃ আব্দুল মালেক, পিতাঃ শামছুদ্দিন সাং- দৌলতখালী, থানাঃ দৌলতপুর, কুষ্টিয়া ১১। আব্দুল হান্নান মন্ডল, পিতাঃ মহসিন আলী মন্ডল, সাং-রানাখরিয়া, ইউনিয়নঃ তালবাড়িয়া, থানাঃ মিরপুর, কুষ্টিয়া ১২। টনি মন্ডল, পিতাঃ অমেদ মন্ডল, সাং-রানাখরিয়া, ইউনিয়নঃ তালবাড়িয়া, থানাঃ মিরপুর, কুষ্টিয়া ১৩। মাহামুদ হাসান (৩৩), আওয়ামী পন্থী সাংবাদিক ইউনিয়ন কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক, পিতা: মামুনুর রশীদ, সাং-যুগিয়া পালপাড়া (সবজি ফার্ম), কুষ্টিয়া সদর ১৫। জাহিদুজ্জামান জাহিদ (৪৬), জেলা প্রতিনিধি নিউজ ২৪, পিতাঃ সোলেমান শেখ, সাং- সোনাইডাঙ্গা, থানা-ইবি, কুষ্টিয়া ১৫। শেখ হাসান বেলাল (৪১), স্টাফ রিপোর্টার আরটিভি, পিতাঃ সোলেমান শেখ, সাং- সোনাইডাঙ্গা, থানা- ইবি, কুষ্টিয়া ১৬। মো. রনি খান (৪৫), কুষ্টিয়া পৌর ১০ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, পিতা: তাইজাল আলী খান, সাং- মিলপাড়া, কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া
১৭। আরিফ বিল্লাহ অন্নম, পিতা- আনিছুর রহমান, সাং-থানাপাড়া (হরিপুর ব্রীজেন নীচে), ২ নং ওয়ার্ড, কুষ্টিয়া পৌরসভা, কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া ১৮। সাইফ উদ্দিন আল আজাদ (৩০), জেলা প্রতিনিধি দৈনিক আজাদীর কন্ঠ, পিতাঃ মওলানা সামসুলহক, মঙ্গলবাড়ীয়া, ওয়ার্ড নং। ১৬, কুষ্টিয়া পৌরসভা, কুষ্টিয়া ১৯। কে এম শাহীন রেজা (৫০), জেলা প্রতিনিধি দৈনিক গণকন্ঠ, পিতাঃ আশরাফ খন্দকার, সাং-বালিয়াপাড়া (ভাটিপাড়া), কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া ২০। রাসেল (৩৩), পিতা- মুন্সী সামসুল আলম, সাং: নলকোলা, ইবি, কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া ২১। জুলফিকার বিশ্বাস পল্টু (৫৫), পিতা-মৃত ইউসুফ বিশ্বাস, সাং-নলকোলা, ইবি, কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া ২২। মো. আশিফুজ্জামান সারফু (৪২), ক্যামেরা পারসন এনটিভি কুষ্টিয়া, পিতাঃ মৃত তসলিম উদ্দিন সাং-বাড়াদী উত্তরপাড়া, জগতি, কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া
২৩। মোঃ মিলন উল্লাহ (৪৭), জেলা প্রতিনিধি ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন, পিতাঃ কুতুব উদ্দিন সাং- ৫ নম্বর ওয়ার্ড টিএন্ডটি রোড, থানাঃ কুষ্টিয়া ২৪। মীর পারভেজ, ২৫। মীর পলাশ, ২৬। মীর ফয়সাল সর্ব পিতা: রেজাউল ইসলাম বাবু, চৌড়হাস ফুলতলা, কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া সহ অজ্ঞাত নামা ২০/২৫ জন। উপরে উল্লেখিত আসামিদের মধ্যে যারা সাংবাদিক রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি এই সাংবাদিকদের আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এজাহারের বরাত দিয়ে জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন গত ৫ আগষ্ট আনুমানিক দুপুর ২ ঘটিকার সময় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে মামলার বাদি নাছিম আলম। তিনি কুষ্টিয়া এন.এস রোডস্থ বার্মিজ গলির মধ্যে অবস্থান করা কালে মাহবুবুল আলম হানিফ ও আতাউর রহমান আতার নির্দেশে বাকি আসামিরা বিবাদীকে ধাওয়া করে এবং তাদের হাতে থাকা আগ্নেয় অস্ত্র দিয়ে মীর পলাশ, মীর পারভেজ ও মীর ফয়সাল গুলি চালায়, তাদের ছোড়া গুলিতে বিবাদীর শরীরে বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়।
বিবাদীর শরীরের বিভিন্ন অংশ হতে ৫টি গুলি বের করে চিকিৎসকরা। কাউন্সিলর বাবুর ৩ ছেলে-উল্লেখিত মামলার এজাহারভুক্ত আসামী মীর পারভেজ, মীর পলাশ, মীর ফয়সাল কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর মীর রেজাউল ইসলাম বাবুর ছেলে। এদের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। ৫ই আগষ্ট সরকার পতনের পর থেকে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে এদের কুকর্মের ইতিহাস।
মীর পারভেজ তার চৌড়হাস মোড়ের ঔষধের দোকানের আড়ালে চালান মাদক ব্যবসা। নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পারভেজের পিতা একাধারে আওয়ামীলীগের নেতা ও আতার আস্থাভাজন হওয়ায় তাকে কেউ থামাতে পারেনি। কাউন্সিলর বাবুর আরেক ছেলে মীর পলাশ। তিনিও থেমে ছিলেন না। পলাশ ছিল স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী কামিনীর পার্টনার। তাছাড়াও প্রতি মাসে তিনি কামিনীর থেকে ৪০ হাজার টাকা করে নিতেন।
তাছাড়া চৌড়হাস এলাকার অধিকাংশ আবাসিক হোটেলে তাকে মাসোহারা দিয়ে অনৈতিক কর্মকান্ড চালানো হতো। রেজাউল ইসলাম বাবু’র ছেলে মীর ফয়সাল। তিনি কিশোর গ্যাং পরিচালনা করতেন। গত ১৭ই জুলাই চৌড়হাস মোড় এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায় মীর ফয়সাল ও তার গ্যাং। এদিকে মীর রেজাউল ইসলাম বাবুর নামেও কুষ্টিয়ায় একাধিক হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
৫ই আগষ্ট থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন বাবু ও তার পরিবার। তারা সকলেই দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টায় রয়েছেন। স্থানীয় এলাকাবাসীদের দাবি, তারা যেন কোন ভাবেই দেশ ত্যাগ করতে না পারে। তাদেরকে আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। কাউন্সিলর বাবুর সকল অবৈধ সম্পদ ও তার তিন পুত্র সহ তাদের কুকর্মের ইতিহাস জানতে চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।
