মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে এক ট্রাক গ্রানুলার ইউরিয়া সার নিয়ে দিনভর নাটকীয়তা ও এই সার নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সারাদিন উত্তপ্ত ছিলো মিরপুর পালপাড়া বাজার। গতকাল সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোর বেলায় মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক রহমত আলী রব্বান প্রতিদিনের ন্যায় মিরপুর বাজারের মধ্যে হাটাহাটি করা অবস্থায় মিরপুর পুরাতন বাজারে রাস্তার পাশে ইউরিয়া সার বোঝাই একটি ট্রাক দেখতে পেয়ে, ট্রাক ড্রাইভারকে সারের মালিক কে, কোথা থেকে সার এসেছে, আর কোথায় সার নামানো হবে, তা জানতে চান।
কিন্তু তিনি ড্রাইভার সঠিক ভাবে উত্তর না দিতে পারলে তার সন্দেহ হয় এবং ট্রাকটি তিনি দাড় করিয়ে রাখেন। এ সময় স্থানীয় সার ব্যবসায়ী হাজী মনিরুল ইসলাম মনি দাবী করেন, সারের ট্রাক তার দোকানে আনলোড হবে। সে সময় রহমত আলী রব্বান সারের চালান দেখতে চাইলে তিনি দেখাতে না পারলে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ ঘঘনীভূত হলে তিনি লোকজন ডেকে সারের গাড়ি আটকে দেন। এসময় রহমত আলী রব্বান বলেন-ইতিপূর্বে বিএনপি সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের লোকজন সারের কৃত্তিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের মধ্যে আন্দোলন গড়ে তুলে কৃষক নিহতের ঘটনা ঘটিয়েছে।
হাজী মনিরুল ইসলাম যেহেতু আওয়ামী লীগের নেতা এবং সারের কাগজপত্র দেখাতে পারেনি, তাই আমি বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি, তারা যে ব্যবস্থা নিবে, তাতে আমি সম্মত ছিলাম। কিন্তু মনির ছোট ভাই রাজন আমার সঙ্গে বেয়াদবি করে সার বিষয়ে আমি খোজ নেয়ার কে? এরকম চ্যালেঞ্জ করে বসলে আমার কর্মীরা সামান্য উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরে আমি তাদেরকে বুঝিয়ে নিয়ে চলে এসেছি। এদিকে মিরপুর পুরাতন বাজারের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী হাজী মনিরুল ইসলাম ও তার ভাই রাজন দাবী করেন-মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক রহমত আলী রব্বান আমাদের কাছে এক লক্ষ টাকা চাদা দাবী করেছে।
চাদা দিতে না পারায় তারা আমাদের ব্যবসার জন্য আনা সারের ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট-১৮-৬১০৫) আটকিয়ে জোরপূর্বক নিয়ে যেতে চায়। আমরা বাধা দিলে আমাদেরকে মারধর করে। পরে আমাদের লোকজন একত্রিত হলে তারা এলাকা ত্যাগ করে। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পালপাড়া নতুন বাজার কমিটির আয়োজনে মিরপুর থানার পাশে পালপাড়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন করেছে বাজারের ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে বক্তব্য জানার জন্য মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিবি করিমুন্নেছার ফোনও ব্যস্ত পাওয়া যায়।
