নিজ সংবাদ ॥ প্রয়াত আলহাজ¦ ওয়ালিউল বারী চৌধুরী ছিলেন একজন প্রথিতযশা সাংবাদিক। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পক্ষে (বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশ) তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘স্বাধীন বাংলা’ পত্রিকায় তুলে ধরা হয় পাক হানাদার বাহিনীর বর্বরতার সংবাদ। মুক্তিযুদ্ধে বাংলার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পত্রিকাটি রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। স্বাধীনতা যুদ্ধে অস্ত্র না ধরলেও কলমযুদ্ধে প্রশংসা কুড়ান কুষ্টিয়া তথা দেশজুড়ে মুক্তিকামী সাধারণ মানুষের।
এজন্য বিক্ষুব্ধ পাক হানাদার বাহিনীর লক্ষবস্তুতে পরিনত হন তিনি। তাঁর সাহসিকতা আজো তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক সমাজসহ এতদ্বাঞ্চলের মানুষ। তবে এই গুণী ব্যক্তিত্বকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা, অসত্য ও কুরুচীপূর্ণ মন্তব্য করায় জেলা জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবি অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান মণি তাঁকে নিয়ে করেন আপত্তিকর মন্তব্য। যা মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
তিনি উল্লেখ করেন আলহাজ¦ ওয়ালিউল বারী নাকী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন করিমপুরে বসে সরকারী সুবিধায় সাপ্তাহিক ইস্পাত পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। সরকারী ভাতাও তিনি নিয়েছেন। এমন মন্তব্যে সংক্ষুব্ধ হয়েছেন কুষ্টিয়াবাসী। একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে কীভাবে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন তা নিয়েও চলছে সমালোচনা। সাংবাদিক মহলতো বটেই, মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী সাংস্কৃতিক কর্মী থেকে শুরু করে সবাই তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ব্যবসায়ী ইয়ার আলী- জানান কুষ্টিয়ার প্রয়াত সাংবাদিক আলহাজ¦ ওয়ালিউল বারী চৌধুরীকে নিয়ে ফেসবুকে অ্যাডভোকেট মনির মন্তব্য দেখেছি। তার এমন আচরণে আমি ব্যক্তিগতভাবে মর্মাহত হয়েছি।
ওয়ালিউল বারী চৌধুরী একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন নির্লোভ একজন মানুষ। তাঁর বাবা ফজলুল বারী চৌধুরী ছিলেন ধর্ণাঢ্য পরিবারের সন্তান। তাই তাঁর সম্পদেরও অভাব ছিলনা। সুতরাং তাঁকে নিয়ে অসত্য, বিভ্রান্তিকর মন্তব্য খুবই দু:খজনক। সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম জানান একজন মুক্তিযোদ্ধার মন্তব্য এমন হতে পারেনা। যুদ্ধকালীন সময় তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা মুক্তিকামী মানুষকে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করে। একজন আদর্শবান সাংবাদিক ছিলেন তিনি। তাঁর হাতে আমার মত অনেক সাংবাদিকের হাতে খড়ি। তিনি আমাদেরকে নির্লোভ নিষ্ঠাবান সাংবাদিক হতে শিখিয়েছেন।
তিনি ছিলেন কুষ্টিয়া তথা এতদ্বাঞ্চলের গণমাধ্যমকর্মীদের অনুপ্রেরণা। তাছাড়া স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সরকারী সুবিধা নিয়ে ইস্পাত পত্রিকা বের করতেন এমন তথ্যও মিথ্যা। কারন আমি সাপ্তাহিক ইস্পাত পত্রিকাতেও কাজ করেছি। আমার জানামতে স্বাধীনতার আগে নয়, স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক পরে ইস্পাত পত্রিকা প্রকাশ পায়। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমিরুল ইসলাম সরকার জানান সাংবাদিকতা পেশায় না থাকলেও জেলার সাংবাদিকদের সাথে বরাবরই সখ্যতা রয়েছে। বিশেষ করে প্রয়াত প্রবীণ সাংবাদিক আলহাজ্ব ওয়ালিউল বারী চৌধুরীকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। সাংবাদিকতা পেশাকে জেলায় অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
দ্যর্থহীন কন্ঠে বলা যায় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় তিনি ছিলেন সর্বাগ্রে। তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন তোলার মত কিছু নেই। হঠাৎ ফেসবুকে দেখলাম অ্যাডভোকেট মনি নামে এক ব্যক্তি ওয়ালিউল বারী চৌধুরীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। তার এমন আচরণে ব্যথিত হয়েছি, তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এবিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল আলম টুকুর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান আলহাজ¦ ওয়ালিউল বারী চৌধুরী ছিলেন একজন সজ্জন মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর প্রকাশিত পত্রিকা মুক্তিকামী মানুষকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তবে ওই সময় ইস্পাত পত্রিকার জন্ম হয়নি।
ওয়ালিউল বারী চৌধুরী অস্ত্রহাতে যুদ্ধ না করলেও কলমযোদ্ধা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। যা একজন মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে কোন অংশে কম নয়। মুক্তিযোদ্ধা টুকু আরো বলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় আলহাজ¦ ওয়ালিউল বারী চৌধুরী করিমপুরে ছিলেন না । তিনি ছিলেন কৃষ্ণনগরে। তিনি যেখানে থাকতেন সেখানে আমিও গিয়েছি। তবে তাঁর সম্পর্কে ফেসবুকে যা মন্তব্য করা হচ্ছে বলে শুনেছি তা সঠিক নয় বলে আমার মনে হয়েছে। যা বলা হচ্ছে বা ফেসবুকে দেয়া হচ্ছে আমার দৃষ্টিতে সঠিক কাজ নয়। এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান মণির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
