নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া স্বর্ণ পট্টিতে একটি সোনা কারবারি সিন্ডিকেট রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে চোরাই ও ছিনতাইসহ অবৈধ সোনা কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় ছোটখাটো চোরাই সোনা ক্রয়ের অভিযোগ কিছু অসাধু ব্যবসারীর উপরে উঠলেও এবার ঢাকার চোরাই সোনা উদ্ধার হয় কুষ্টিয়া জেলা স্বর্ণ শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিসুর রহমান আনিস ও বসাক জুয়েলার্স থেকে। কুষ্টিয়া স্বর্ণপট্টি থেকে এই চোরাই সোনা উদ্ধার কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া জেলা ব্যাপি চলছে নানা ধরনের সমালোচনা। অভিযুক্ত আনিসসহ যাদের কাছ থেকে চোরাই সোনা উদ্ধার করা হয় তাদেরকে গ্রেফতার না করায় ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড়। এদিকে এই বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ অনুসন্ধান করছে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা। এদিকে অবৈধ সোনা কেনাবেচার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে কুষ্টিয়ার সচেতন নাগরিক সহ সাধারণ সোনা ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, ঢাকা থেকে চুরি যাওয়া ১’শ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধারে গত ২৪ মার্চ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি আভিযানিক দল কুষ্টিয়ায় অবস্থান নেন। পরবর্তীতে ২৫ মার্চ সকালে জেলার পোড়াদহ বাজারের বিশ্বাস জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত হোসেন আলী নামের একজনকে আটক করেন তারা।

হোসেনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী জেলা সদর উপজেলার ঢাকা ঝালুপাড়া সহ আশে পাশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত আরিফ, হাসান আলী, স্বজল, রফিক ও নাসিরকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর আটককৃতদের থেকে তথ্য নিয়ে একই দিন বেলা আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের সোনাপট্টিত সেক্রেটারি আনিস বসাক জুয়েলার্স সহ বেশ কয়েকটি জুয়েলার্সেও অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশের সেই আভিযানিক দল। অভিযান শেষে ছিনতাই হওয়া ১’শ ভরি সোনা’র মধ্যে বড় একটি অংশ উদ্ধার করা হলেও কি পরিমান সোনা উদ্ধার হয়েছে তা’র সঠিক পরিমান নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। গোপন সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া সোনা পট্টিতে একটি সোনা কারবারি সিন্ডিকেট রয়েছে, যারা চোরাই ও ছিনতাই সহ অবৈধভাবে প্রাপ্ত সোনা কেনাবেচা করে। এ রকম তথ্য পেয়েই ঢাকার ডিবির একটি টিম কুষ্টিয়া সোনা পট্টিতে অভিযান চালিয়ে জেলা স্বর্ণ শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনিসুর রহমান আনিস ৬ ভরি ও বসাক জুয়েলার্স এর স্বত্বাধিকারী মনার ছোট ভাই ধনঞ্জয় পোড়াদহের বিশ্বাস জুয়েলার্স’র মালিক হোসেন’র নিকট থেকে ৫ ভরি সোনা কিনেছে বলে জানা যায়। এছাড়াও জানা যায় মাসখানেক আগেও আনিসুর রহমান আনিসের একাউন্টে নয় লক্ষ টাকার উপরে টাকা জমা হয়। কিন্তু সেই টাকা পরবর্তীতে আবার বগুড়ার এক অজ্ঞাত পার্টি নিয়ে যায়। এ বিষয়ে আনিস এর সাথে যোগাযোগ হলে, তিনি বলেন ১৫/২০ দিন আগে ৬ ভরি সামথিং সোনা আমি কিনেছিলাম। যা রিকভারি হিসাবে ডিবি পুলিশের কাছে জমা দিয়ে দিয়েছি। তারা আরও কয়েক জায়গায় এইসব সোনা বিক্রয় করেছে বলে তিনি জানান। তার একাউন্টে টাকা আসার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, বগুড়ার এক পার্টি আমার একাউন্টে ভুল করে টাকাটি দিয়েছিল, পরবর্তীতে আমি তাদের টাকা ফেরত দেই। কিন্তু টাকা প্রদানকারী ব্যক্তির কোন নির্দিষ্ট প্রমাণ রাখেননি। ছিনতাই হওয়া সোনা উদ্ধারের বিষয়ে বসাক জুয়েলার্স এর স্বত্বাধিকারী মনা বলেন, আমার ছোট ভাই ধনঞ্জয় ১৫/২০ দিন আগে পোড়াদহের বিশ্বাস জুয়েলার্স’র মালিক হোসেন’র নিকট থেকে ৫ ভরি সোনা কিনেছিলে। সেটা যে ছিনতাই করা সোনা এটা আমরা বুঝবো কিভাবে। একজন জুয়েলার্স মালিক এসে বিক্রি করেছে, আমরা কিনেছিলাম। ডিবি পুলিশের কাছে আমরা সেই পরিমাণ সোনা বুঝিয়ে দিয়েছি। আপনাদের আরো কিছু জানার থাকলে জুয়েলার্স মালিক সমিতির সাথে কথা বলেন। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, কুষ্টিয়াতে যাদের কাছে স্বর্ণ পাওয়া গেছে, তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টা আসলে ঢাকা ডিভিশনের বিষয়।
