কুমারখালীর আলোচিত জিয়ার হত্যাকান্ডের এজাহার নামীয় আসামী কালোয়া গ্রামের বদি মন্ডলের ছেলে জাহান মন্ডল (৪২) কে চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে আটক করেছে র্যাব-১২, সিপিসি-১ কুষ্টিয়া এবং র্যাব-৭, সিপিসি-৩ ক্যাম্পের যৌথ আভিযানিক দল। তবে ঠিক কখন এবং কবে তাকে আটক করা হয়েছে সেই বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ করা হয়নি র্যাবের ঐ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।

র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১২ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখ ভোর আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটের সময় কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানাধীন বেড় কালোয়া গ্রামে জিয়ার এর বসত বাড়িতে এজাহার নামীয় আসামিগণের সাথে মারামারি সংগঠিত হয়। আসামিগণের সাথে দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক বিভিন্ন বিষয় লইয়া মতবিরোধ ও শত্রুতা এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জিয়ার সাথে দুই পক্ষের মধ্যে লাঠি, লোহার রড, হাসুয়া, রামদা, লোহার হাতুড়ি, চাইনিজ কুড়াল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারামারি সংঘঠিত হয়। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকে আহত হয় এবং যার মধ্যে কুমারখালী উপজেলার বেড় কালোয়া গ্রামের বদর উদ্দিনের ছেলে জিয়ার (৪২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতুবরণ করে। তবে এই ঘটনাকে নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতা হিসাবে দেখিয়ে বিশেষ ভাবে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে আসছে একটি মহল। তাই তারা বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে ১২ জানুয়ারীর ঐ সহিংসতা মূলত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। যা মূলত অসত্য এবং ভিত্তিহীন। অবশ্য ঘটনার পর থেকেই কয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম স্বপন এই বিষয়ে বিরোধিতা করে বলে আসছেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই সহিংসতা ঘটেছে। এই সহিংসতায় জড়িত উভয় পক্ষই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জের সমর্থক। অন্যদিকে এই ঘটনাকে নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতা হিসাবে দেখিয়ে ঐ এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি অবনতি করার চেষ্টা করেছেন কয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আলী হোসেন। এই পর্যন্ত তিনি গণমাধ্যমে সহ বিভিন্ন স্থানে বলেছেন, জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থকেরা নৌকার সমর্থকদের উপরে হামলা করেছেন। ঘটনা সূত্রে জানা গেছে, বের কালোয়া গ্রামের সাবেক মেম্বর আব্দুল খালেকের সঙ্গে কেঁদো শেখের ছেলেদের প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। পদ্মা নদীতে মাছ ধরা, যেকোনো নির্বাচনসহ বিভিন্ন অজুহাতে প্রায়শই দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সকালে বের কালোয়ারা মোড়ে দু’পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুই ভাই গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ঘটনার পর আহত নৌকার সমর্থকের দাদী গোলাপি বেগম জানিয়েছিলেন, এমপি নির্বাচনে নৌকা হেরে যাওয়ার পর থেকে ট্রাকের সমর্থকরা বিভিন্নভাবে তাদের হুমকি দিচ্ছিলেন। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে ট্রাকের সমর্থক স্থানীয় খালেক মেম্বারের ছেলে রিপন ও শিপনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় ঘরের মধ্যে ঢুকে তার দুই নাতি জিয়া ও আলতাফকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক আহত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। ঘরের মধ্যে ঢুকতে গেলে তাকে বাধা দেয় হামলাকারীরা। বাইরে থেকে তিনবার গুলির শব্দ শুনেছেন বলে জানান। পরবর্তীতে স্বজনরা আহতদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছেন। ঘটনার পর আহত আলতাফ জানিয়েছিলেন, নৌকা হেরে যাওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছিল ট্রাকের সমর্থক খালেক মেম্বারের ছেলেরা। শুক্রবার সকালে হঠাৎ তারা ১৫-২০ জন বাড়িতে এসে ভাঙচুর করে। তাদের দুইভাইকে মারপিট করে এবং হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয়। ঘটনার দিন অর্থাৎ ১২ জানুয়ারী আহত নৌকার সমর্থকের দাদী গোলাপি বেগম বলেছিলেন, এমপি নির্বাচনে নৌকা হেরে যাওয়ার পর থেকে ট্রাকের সমর্থকরা বিভিন্নভাবে তাদের হুমকি দিচ্ছিলেন। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে ট্রাকের সমর্থক স্থানীয় খালেক মেম্বারের ছেলে রিপন ও শিপনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় ঘরের মধ্যে ঢুকে তার দুই নাতি জিয়া ও আলতাফকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক আহত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। ঘরের মধ্যে ঢুকতে গেলে তাকে বাধা দেয় হামলাকারীরা। বাইরে থেকে তিনবার গুলির শব্দ শুনেছেন বলে জানান। পরবর্তীতে স্বজনরা আহতদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছেন। ঘটনায় সময় ঐ স্থানে কোন গোলাগুলি হয়নি। অথচ বলা হচ্ছে সে নাকি গুলিবিদ্ধ ছিলো। আসলে ঘটনায় জড়িত উভয় পক্ষই নৌকার সমর্থক এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘ দিনের বিরোধ চলমান। এর আগে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে। সঠিক ভাবে তদন্ত করলে সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে। এখানে ট্রাক প্রতীককে বিশেষ উদ্দেশ্যে জড়ানো হচ্ছে। এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। মোবাইল ফোনে নিহতের ছোট ভাই ইয়ারুল বলেন, ‘নৌকায় ভোট দেওয়ার অপরাধে ১২ জানুয়ারি সকালে সাবেক ইউপি সদস্য খালেক ও তার তিন ছেলে রিপন, লিটন, শিপনসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী আমার দুই ভাইকে গুলি করে। তাদের মধ্যে জিয়ার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি আসামিদের ফাঁসির দাবি করে থানায় মামলা করেছেন। এ বিষয়ে জানতে খালেক মেম্বর ও তাঁর ছেলে রিপন আলীর মোবাইল ফোনে বারবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ১২ জানুয়ারি তিনি ফোনে বলেছিলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের উপর হামলা করেছিল। সেজন্য তারাও প্রতিপক্ষকে পাল্টা ধাওয়া দিয়েছিল। সে সময় কয়েকজনকে মারধর করা হয়। তবে গোলাগুলির কোনো ঘটনা ঘটেনি।
