কুষ্টিয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ এঁর ১৩৩তম তিরোধান দিবসের উদ্বোধন
মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ এই স্লোগান কে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ এঁর ১৩৩তম তিরোধান দিবস ২০২৩ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। ১৭ অক্টোবরে সন্ধ্যায় কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ায় লালন একাডেমির আয়োজনে ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ এঁর ১৩৩তম তিরোধান দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

কুষ্টিয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ এঁর ১৩৩তম তিরোধান দিবসের উদ্বোধন
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-০৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-০১ আসনের সংসদ সদস্য ও দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আঃ কাঃ মঃ সরওয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া-০৪ আসনের সংসদ সদস্য ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রকিব, বিপিএল, বিপিএম, পিপিএম (বার), জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, কুমারখালী পৌরসভার মেয়র সামছুজ্জামান অরুন, মেয়র । জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিজ্ঞ পিপি অ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী, কুষ্টিয়া নাগরিক কমিটির সভাপতি এস এম মুসতানজীদ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান।
এসময় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক উপ-উপাচার্য ড.শাহিনুর রহমান এবং আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালন মাজারের খাদেম মোহাম্মদ আলী
জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজার সভাপতিত্বে এসময় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আখতার, কুমারখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল বিতান কুমার মন্ডল।
বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস উপলক্ষে ছেউড়িয়ার কালী নদীর তীরে বসেছে সাধুর হাট এবং ঐতিহ্যবাহী লালন মেলা। দেশ এবং দেশের বাইরে থেকে লালন অনুসারী ও ভক্তরা জড়ো হয়েছেন মাজারপ্রাঙ্গণে। তারা দলবদ্ধভাবে লালন সাইজির বিভিন্ন গান পরিবেশন করছেন। অন্যদিকে লালন মাজারের মাঠে বসেছে গ্রামীণ মেলা, মেলা উপলক্ষে হরেক রকমের দোকান বসেছে, মেলার প্রথম দিনেই নানান বয়সী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। তিরোধান দিবস উপলক্ষে লালন মাজার ও মাঠ প্রাঙ্গনে পুলিয়,র্যাব, আনসার সহ স্বেচ্ছাসেবীরা নিরাপত্তা প্রদান করছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন ১৩৩ বছর আগে লালন চির বিদায় নিয়েছেন। তিনি একজন দার্শনিক ছিলেন, মানবতার প্রতিক ছিলেন, গীতিকার ছিলেন, কবি ছিলেন, শিল্পী ছিলেন একজন সমাজ সচেতনা মানুষ ছিলেন। তিনি কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেনি কিন্তু তার মধ্যে আধ্যাত্মিক জ্ঞান ছিল অনেক। লালন কোনো জাত পাতের বিশ্বাস করে নাই, আসলে মানুষের জাত একটাই সেটা হল মানুষ। যারা সামাজের অধিপতি ছিলেন তারা সবসময় সমাজকে শোষণ করেছিলেন আর লালন শোষণ মুক্ত করতে কাজ করেছিলেন। লালনের অবিস্মরণীয় বাণীগুলো সমাজের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। আমাদের সমাজটা আজকে ধর্মে বিভক্ত কিন্তু আমাদের এক জায়গা থেকে সৃষ্টি আমাদের সৃষ্টিকর্তা একজনই। সৃষ্টিকর্তার যদি একজনই হয় তাহলে আমরা কেন সমাজের মধ্যে ভাগাভাগি সৃষ্টি করছি। ধর্ম কিন্তু পোশাকের মধ্যে উঠে আসে না ধর্ম হল অন্তরের বিষয় এটা পালন করতে হয়। আজকে এক লালনের বাণী গুলা মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। আজকে সমাজ ও রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করতে হলে লালনে বাণী গুলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে। দীর্ঘ ২৩ বছরের পাকিস্তানের শাসনের পর বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই বাংলাদেশের বিজয় এসেছে। কিন্তু সেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে আমাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করেছে। আর সেদিন থেকেই জামাত বিএনপি ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করা শুরু করে তারা সমাজকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভক্ত করে। আজকে ধর্মনিরপেক্ষ স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু জামাত-বিএনপি গাড়ি পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে বাংলাদেশকে একটা জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত করেছিল। কিন্তু আমরা সেই জঙ্গিবাদ নিপাত করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে যার যার ধর্ম সে নিজ ভাবে পালন করতে পারছেন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন দেশে অকল্পনীয় বড় বড় উন্নয়ন হয়েছে যা বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের সম্মান অনেক বেড়েছে।
