কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে ১৭ ই আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে এবং জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী’র পরিচালনায় বৃহঃবার ১৭ই আগস্ট বিকেল ৪ টায় জেলা আওয়ামীগের কার্যালয়ে দেশব্যাপি জেএমবি কর্তৃক চাঞ্চল্যকর সিরিজ বোমা হামলা উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের আয়োজনে ১৭ ই আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা
উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করনে, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান । আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাবিবুল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার ঘোষ, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. হাসানুল আসকার হাসু, নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিজ, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য হাবিবুল হক পুলক, জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি জেবুন নিসা সবুজ, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ ।
আরো উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. শিলা বসু, জেলা তাঁতি লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ সহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মিরা । আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী বলেন, এই বাংলাদেশের মাটিতে ধর্মের নাম নিয়ে অধর্ম কাজ করা, জঙ্গিবাদের নাম করে আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই । যেখানে কোর্ট কাচারী বিচারের জায়গায় মানুষ বিচার করে, সেখানে একনাগাড়ে বিচারের জায়গায় বিচারকদের হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলো । এই জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ তারা, যারা এই দেশটাকে বিশ্বাস করে নাই, যারা এই জাতিকে বিশ্বাস করে নাই, যাদের কারণে এই দিশের ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন, তিন লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমহানী হয়েছে । তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে এই দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ স্বাধীন করেছে । সেই স্বাধীন দেশে তারা জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটাতে একযোগে সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলা করেছিলো ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী বলেন, এদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আমাদের শুনতে হয়েছে, আমরা হবো তালেবান, বাঙলা হবে আফগান । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ৪ টি স্তম্ভের উপর বাংলাদেশকে দাঁড় করিয়েছিলেন, বাঙালী জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরেপেক্ষতা এবং সমাজতন্ত্র । বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’র নেতৃত্বে । ৭২ সালে সংবিধানে সেটা আছে । এদেশের মাটিতে দেখতে হয়েছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে মাঠে নামার সুযোগ ছিলো না, তার পরেও আমরা সেদিন প্রতিহত করেছি । যখন ছাত্রশিবির আক্রমণ করেছে তখন আমরা ঘুরে দাঁড়িয়ে বলেছি এর প্রতিহত করতে হবে । সেদিন থানার সামনে যখন তারা ব্যাগ ফেলে রেখে দৌঁড় দিয়েছে, খুলে দেখি ওর ভিতরে কিছু পাথর ।
একটি কথা বলতে চাই, তালেবান কারা, তালেবান সৃষ্টি করে কারা? বাঙলা ভাই দেখেছি, যত ভাই দেখিনা কেন, শুধু একটা জায়গায় আসেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আর্দশের সৈনিক, আমরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না । দেলোয়ার হোসের সাঈদী কুষ্টিয়াতে ছিলো, কোন অবস্থাতে, কোন জায়গাতে কি করেছে, সব আমরা কিন্তু জানি । তিনিও প্রতিহত করতে পারে নাই । আমাদের আত্মসুদ্ধি ও আত্ম সমালোচনা করতে হবে । জামাত-শিবির যারা করেছে তারা আমাদের দলের মধ্যে এসে ভনিতা করার চেষ্টা করার চেষ্টা করবে ।
আমি দেখেছি তারাও (জামাত-শিবির) জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে আমাদের মধ্যে ঢুকে পড়ছে । ষড়যন্ত্র ছিলো, সেদিন এই দেশের মাটিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উৎখাত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলো । তারা যখন কলমের খোঁচায় সমাজতন্ত্রকে উচ্ছেদ করেছে, সামাজিক ন্যায় বিচার নিয়ে এসেছে, ধর্ম নিরপেক্ষতা যখন উচ্ছেদ করেছে, উৎখাত করেছে, সেখানে বিসমিল্লাহ হির রহমানীর রাহিম বসানো হয়েছে । এদেশের মানুষ যারা ছিলো, যারা সনাতন ধর্মের মানুষ তারা কোথায় যাবে ? জিয়াউর রহমান এদেশের ইতিহাস উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করেছিলো । আজকেও সেই সংগ্রামে আমরা লিপ্ত আছি । তারা পিছন থেকে ষড়যন্ত্র করে । এখোনো তো সেই ষড়যন্ত্রের মধ্যেই আমরা আছি ।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যের শুরুতে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান বলেন, আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ ১৫ ই আগস্টে যারা শহীদ হয়েছিলেন, জাতীয় চার নেতা সহ মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছিলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় যারা শহীদ হয়েছিলেন, আজকের দিনে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামরা করেন । সদর উদ্দিন খান আরো বলেন, আজকের এই দিন সেই দিন, লুৎফর রহমান বাবর বলেছিলো ” বাংলা ভাই, ইংলিশ ভাই কিছু বুঝি না” । কিন্তু তারই সৃষ্ট এই বাংলা ভাই’র নেতৃত্বে ১৭ ই আগস্টের এই বোমা হামলা । ৬৪ টা জেলার মধ্যে ৬৩ টা জেলায় বোমা বিস্ফোরিত হয় একই টাইমে । শুধু একটা জেলা বাকি ছিলো, সেটা মুন্সীগজ্ঞ জেলা ।
সদর উদ্দিন খান আরো বলেন, বর্তমানে খোকসা’র একতারপুর অঞ্চলে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কিছু উগ্রোবাদী আমাদের সনাতন ধর্মের যারা মানুষ আছে তাদের হুমকী ধামকী দিচ্ছে । এগুলো প্রতিরোধ করা দরকার । আগামী ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস । পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠে আগামী ২০ তারিখে জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফ সাহেব জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে একটা সমাবেশ করবে । সবাইকে সেখানে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি । সিলেটে ইংল্যান্ডে হাইকমিশনার আনোয়ার হোসেন’র উপর বোমা হামলা করা হয়েছিলো ।
বিভিন্ন নেতাদের উপরে বোমা হামলা করা হয়েছিলো । বিএনপি-জামাত দেশটাকে জঙ্গবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিলো এবং এখনও চাই । তারা নেত্রীসহ আওয়ামীলীকে নিঃচিহিৃত করতে চেয়েছিলো । সেটাই ছিলো তাদের মূল পরিকল্পনা । সেই পরিকল্পনার ধারাবহিকতায় আজকের এই দিনে পিরোজপুরের দুই বিচারক শহীদ হয়েছিলেন, বাদ বাকী নেতা কর্মিরা অক্ষত ছিলেন । সেদিন তারা জানান দিয়েছিলো, তাদের শক্তি কতটুকু ।
