কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন কমিটি ছাড়াই সমাপ্ত - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন কমিটি ছাড়াই সমাপ্ত

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুলাই ১২, ২০২৩
কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন কমিটি ছাড়াই সমাপ্ত

মঙ্গলবার (১১জুলাই) কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিকেল সাড়ে চারটায় বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের শুরুতেই পবিত্র কোরআন ও গিতা পাঠ করা হয় এবং আগত অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন কমিটি ছাড়াই সমাপ্ত

কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন কমিটি ছাড়াই সমাপ্ত

কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন কমিটি ছাড়াই সমাপ্ত

কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আখতারুজ্জামান লাবুর সভাপতিত্বে এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মাহবুবউল আলম হানিফ।

উদ্বোধক হিসেবে সম্মেলনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গাজী মেজবাউল সাচ্চু। এছাড়াও প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ নাসির উদ্দিন, সহ-সভাপতি কাজী শাহানারা ইয়াসমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসানা জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সায়েম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছাইফুর রহমান ছিন্টু, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আ.কা.ম.সরওয়ার জাহান বাদশা, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। এই বিষয়টাকে আমি স্বাগত জানায়। মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কমিটিতে কোন স্থান নাই। উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। তাই ঐ জামায়াত-শিবির ওই খুনি তারেক জিয়া, খুনি খালেদা জিয়ারা এক দফার আন্দোলন ঘোষণা করেছেন। তাই স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকতে হবে, যেন ওই বিএনপির ঘোষিত এক দফার কোন মিছিল মিটিং এই কুষ্টিয়ার মাটিতে না হয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী বলেন- স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে হাজার হাজার তরুণদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। তোমরা আগামীর ভবিষ্যৎ, তোমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের আগামীর সোনার বাংলাদেশ। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা থাকাকালীন যে উন্নয়ন করেছে তা আজ দৃশ্যমান। দেশের জনগণ সবসময় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। বাংলাদেশের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে রাজনীতি করতে হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম আফজালুর রহমান বাবু বলেন- স্বেচ্ছাসেবক লীগ এমন একটি সংগঠন যারা সব সময় স্বেচ্ছায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সারা বাংলাদেশে কাজ করে যাচ্ছে। আজকে আপনারা দেখেন বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশের কি পরিমান উন্নয়ন হয়েছে? বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাতেই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। মেট্রোরেল থেকে শুরু করে পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল, পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অসংখ্য উন্নয়ন করেছেন বর্তমান সরকার। একটা সময় যখন জামায়াত-বিএনপিরা ক্ষমতায় ছিল তখন দেশের মানুষ বিদ্যুৎ পেতনা। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। আজকে বাংলাদেশ দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত দেশে পরিণত হয়েছে। আর এসব সবকিছুই সম্ভব হয়েছে কেবলমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণেই। তাই আমি স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃবৃন্দ কাছে আহ্বান করছি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনাদের অগ্রণী ভূমিকা চাই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন- বাংলাদেশে একটা রাজনীতি অস্থিরতা চলছে। এই অস্থিরতা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন ডিসেম্বরের শেষে অথবা জানুয়ারির ৫ তারিখের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। যেসব দলের নির্বাচন করার সক্ষমতা আছে সেসব দলই প্রস্তুতি নিবে, এটা যৌক্তিক। কিন্তু আমরা দেখি নির্বাচন আসলেই আমাদের দেশে এক ধরনের অস্থিরতা শুরু হয়ে যায়। আর এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী জামায়াত-বিএনপিরা। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিপক্ষে এবং পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছিল। জামায়াত সৃষ্টি হয়েছিল পাকিস্তানের হাত ধরে। আর বিএনপির সৃষ্টি হয়েছিল পাকিস্তানি গোয়েন্দার হাত ধরে। এই দুইটা দল পাকিস্তানের সৃষ্টি। এরা একে অপরের পরিপূরক। এরা দেশের উন্নয়ন চায়না, তাই নির্বাচন আসলে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাই।

হানিফ এমপি আরো বলেন, আজকে উপস্থিত তরুনদের সামনে রেখে মির্জা ফখরুলকে প্রশ্ন করতে চাই। সেই ২০১৩ সালে আপনারা এক দফা দাবি নিয়ে বর্তমান সরকারকে পতন ঘটানোর আন্দোলনে কথা বলেছিলেন, কিন্তু আপনাদের নেত্রী দুর্নীতি দায়ে জেলে ছিলেন। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দয়ার কারণে চিকিৎসার নামে নিজ বাড়িতে থাকতে পারছেন। এখন আবার মির্জা ফখরুল এক দফা দাবির কথা বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ এর আগে এক দফা দাবির কথা শুনেছে তবে তা কখনোই বাস্তবায়ন হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ আরো বলেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া দল। এই দলের সৃষ্টি হয়েছিল পাকিস্তানের শোষণ থেকে লড়াই সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করার জন্য। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, আমরা শেখ হাসিনার কর্মী। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে অনেকবার হত্যার চেষ্টা করেছিল তারা, কিন্তু আল্লাহর রহমতে এবং এই দেশের মানুষের দোয়ায় তিনি বেঁচে যান। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নের রোল মডেল। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দেশে হাজার হাজার উন্নয়ন করেছে বর্তমান সরকার। বাংলাদেশের মানুষ আজকে না খেয়ে থাকে না। তাই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শেখ হাসিনার সরকার বারবার দরকার ।

সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে কিছুক্ষন বিরতির পর দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয় । সে সময় কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্তি ঘোষনা করা হয় এবং নতুন কমিটির জন্য পদ প্রত্যাশীরা নিজেদের স্ব স্ব নাম উপস্থাপন করেন। সভাপতি প্রার্থী হিসেবে ৮ জন এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে ১৬ জন তাদের নিজ নিজ নাম প্রস্তাব করেন এবং পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে যাছাই-বাছাই করে যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি ঘোষনা করা হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা।

আরও পড়ুন: