শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতুর দ্বার খুলছে আজ; দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে কুমারখালীর ৭ লাখ মানুষের - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতুর দ্বার খুলছে আজ; দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে কুমারখালীর ৭ লাখ মানুষের

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৩
শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতুর দ্বার খুলছে আজ; দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে কুমারখালীর ৭ লাখ মানুষের

শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতুর দ্বার খুলছে আজ; দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে কুমারখালীর ৭ লাখ মানুষের। কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর তীর ঘেঁষে কুমারখালী উপজেলার অবস্থান। নদীটি উপজেলাকে দুইভাগে ভাগ করে রেখেছে। ১১টি ইউনিয়নের ৬টি নদীর এপারে ও ৫টি নদীর ওপারে। যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর, বাগুলাট ও চাপড়া নামের এ পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও নৌকা।

শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতুর দ্বার খুলছে আজ; দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে কুমারখালীর ৭ লাখ মানুষের

শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতুর দ্বার খুলছে আজ; দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে কুমারখালীর ৭ লাখ মানুষের

শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতুর দ্বার খুলছে আজ; দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে কুমারখালীর ৭ লাখ মানুষের

ঝড়-বৃষ্টি ও আবহাওয়া খারাপ হলে পারাপারে চরম দুর্ভোগে পড়তে হতো সাধারন মানুষের। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ছিল একই সমস্যা। বিশেষ করে রোগী পরিবহনে বড় সমস্যা ছিল এলাকার কয়েক লাখ মানুষের। অনেক সময় ঘাটে মারা গেছে রোগীরা। তবে দীর্ঘ ৪ যুগের বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। ঈদের একদিন আগে (বুধবার) খুলে দেওয়া হয়েছে লাখো মানুষের স্বপ্নের সেতুটি। আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বার না খুললেও ঈদ ও এলাকাবাসীর কথা চিন্তা করে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান স্থানীয় সাংসদ ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, ‘এক সাথে ১০টি সেতু নির্মানের টেন্ডার করা হয় সারা দেশে। শুধুমাত্র কুমারখালীর এ সেতুটি সময়মতো শেষ হচ্ছে। আমার এলাকার মানুষের জন্য ঈদের আগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার। সেতুটি নির্মানের পেছনে অনেক গল্প ও ইতিহাস আছে। ৫টি বছর আমি শ্রম দিয়ে আসছি যাতে যথা সময়ে কাজটি শেষ হয়। সেতুটি চালু হলে ব্যবসা-বানিজ্যে ছাড়াও কৃষিতে নতুন দিগন্ত সুচনা হবে।’

জানা গেছে, ‘স্বাধীনতার ৫২ বছর পরে হলেও কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদীর ওপরে পৌরসভার তেবাড়িয়া-যদুবয়রা লালনবাজার পয়েন্টে সেতু নির্মাণ করছেন বর্তমান সরকার। যার প্রস্তাবিত নামকরণ করা হয়েছে শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু। ইতিমধ্যে ৬৫০ মিটার পিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এরইমধ্যে সেতু ঘিরে কৃষক, ব্যবসায়ী, তাঁতি, শিক্ষার্থী, চাকুরীজীবী, শ্রমিকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা বলছেন, সেতু চালু করা হলে একদিকে যেমন মানুষ খুব সহজে, নিরাপদে ও কম সময়ে চলাচল করতে পারবেন। অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারনের পাশাপাশি জীবনমানের উন্নয়ন হবে বহুগুণ।

নদী পাড়ে বাড়ি নজরুল ইসলাম বলেন,‘ একটি সেতুর জন্য ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা ছিল। সেই অপেক্ষা শেষ হতে চলেছে। এখন তার ঘাটে এসে নৌকার জন্য অপেক্ষায় থাকা লাগবে না, বৃষ্টি, ঝড় ও রোদে পুড়তে হবে না। কৃষি পন্য আনা-নেওয়া সহজ হবে। বিশেষ করে অসুস্থ মানুষের হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য বেগ পেতে হবে না। ঈদের আগে এটি খুলে দেওয়ায় প্রতিটি ঘরে ঈদের আনন্দ বিরাজ করছে। এমপি জর্জ ভাইকে সকলেই ধন্যবাদ দিচ্ছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা প্রকৌশলী আশিক আলী বলেন, ‘ সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। সংযোগ সড়কের কাজও প্রায় ৯৭ শতাংশ শেষ। এখন চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ। আবহাওয়া ভাল থাকলে ঈদের আগেই সকল কাজ শেষ করবেন তিনি।

লালনবাজার খেয়াঘাটে সরেজমিন দেখা গেছে, নদীর ভিতরের জরাজীর্ণ সরু কাঁচা সড়ক দিয়ে পাঁয়ে হেটে চলাচল করছে মানুষ। ঠেলাঠেলি করে নৌকায় উঠছে যাত্রীরা। সেখানে ভিড়ে নৌকায় ওঠার জন্য ভ্যানে ওপরে শুয়ে আছেন একজন রোগী।

এসময় ওই রোগীর স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বলেন, তাঁর স্বামী ডায়রিয়া রোগে ভুগছে। খেয়াঘাটে প্রচুর ভিড় ও ঠেলাঠেলি। আধাঘণ্টা পার হলেও তাঁরা নৌকায় উঠতে পারিনি। সেতু খুলে দেওয়ার খবরে আমরা খুশি। কষ্ট অনেক করেছি, সেতুটি আমাদের মানুষের কপাল খুলে দিবে।

কুমারখালী মূলত তাঁত শিল্প এলাকা। পাশপাশি প্রচুর সবজি উৎপাদন হয়। সেতু চালুর ফলে সবজি দ্রুত ঢাকা নেওয়া ছাড়াও অন্যান্য জেলা দ্রুত পৌঁছানো সহজ হবে। পাশাপাশি শৈলকুপা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ঝিনাইদহ, মাগুরার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করবে। সেতুর ফলে বছরে ৫০০ কোটি টাকার বেশি যোগ হবে স্থানীয় অর্থনীতিতে এমনটি বলছেন ব্যবসায়ী ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

জোতমোড়া গ্রামের কৃষক ছলিম শেখ বলেন, তিনি প্রতিদিনই পৌরবাজারে সবজি বিক্রি করতে যান। নৌকায় চলাচলে তাঁর খরচ, কষ্ট ও সময় বেশি লাগে। ব্রীজ চললে খুব সহজেই তিনি যাতায়াত করতে পারবেন। এতে তাঁর খরচও কম হবে।’

পান্টি গ্রামের তাঁতি মানিক হোসেন বলেন, শনি ও মঙ্গলবার কুমারখালীতে বড় কাপুড়ের হাট বসে। তিনি নদীতে বালু, কাঁদা-পানির ভিতর দিয়ে ভ্যান ঠেলে কাপুড় হাটে নেন। মাঝেমাঝেই তাঁর ভ্যান উল্টে মালামাল নষ্ট হয়।’

উপজেলা প্রকৗেশলী কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, গড়াই নদীর উপর চুক্তিমূল্য প্রায় ৮৯ কোটি ৯১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫৯১ টাকা ব্যয়ে ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের পিসি গার্ডার ব্রীজ (সেতু) ও প্রায় ৫৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল সেতুর কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানদ্বয়। ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর কাজের নির্ধারিত সময় শেষ হয়। এরপর কাজের সময় বাড়ানো হয়েছে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত।

কুমারখালী সরকারি কলেজের ছাত্র রাকিব হাসান বলেন, একটা নৌকা মিস করলে প্রায় ৩০ মিনিট ঘাটেই কেটে যায়। এতে সময় মত শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানে যেতে পারিনা। পরীক্ষার সময় খুব বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

কুমারখালী কাপুড়িয়া হাটের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হলে এমনিতেই ব্যবসা -বাণিজ্য ভাল হয়। সেতু চালু হলে তাঁদের ব্যবসা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘ সেতুর কাজ শেষ। আপাতত খুলে দেওয়া হচ্ছে। পরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।’

উদ্বোধনের বিষয়ে কুমারখালী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শামসুজ্জামান অরুন বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় কুমারখালীতে শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু (প্রস্তাবিত সেতুর নাম) নির্মাণ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সেতুর উদ্বোধন করবেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে ঈদের আগে মানুষের কথা চিন্তা করে খুলে দেওয়া হচ্ছে।’