কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

মডেল গ্রাম গড়তে চায় টিএফসি-ধর্মদহ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ শিক্ষার প্রসার, সবুজায়ন ও দরিদ্র মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ধর্মদহ গ্রামকে আদর্শ গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে শিক্ষিত তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘টিএফসি-ধর্মদহ’ (টুগেদার ফর চেঞ্জ)। সদস্যদের নিজস্ব অনুদানে পরিচালিত সংগঠনটি শিক্ষা সহায়তা, বৃক্ষরোপণ ও দরিদ্র পরিবারে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

 

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে যাত্রা শুরু করা এ সংগঠন একই বছরের ১০ জুন ধর্মদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করে। এ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ১৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা ও উপহার দিতে ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার ৬৫০ টাকা। পাশাপাশি ২০ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি এবং গণিত ও ইংরেজিতে বিনা মূল্যে পড়ার ব্যবস্থা করা হয়। ২০২৬ সালের মে থেকে দুজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তায় মোট ৬২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে ফ্যান, টিউবওয়েল ও সাইনবোর্ড স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ২৯ হাজার টাকা।

 

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ধর্মদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এখনো পাকা একাডেমিক ভবন নির্মিত হয়নি। নতুন ভবনের অনুমোদনের সুপারিশ চেয়ে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হলেও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

 

পরিবেশ রক্ষায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৬০টি তাল ও ২০৭টি গামারিসহ মোট ২ হাজার ৬৭টি গাছ রোপণ করেছে সংগঠনটি। এ কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে ৪৫ হাজার ৩০৫ টাকা।

 

‘ক্ষুধামুক্ত ধর্মদহ’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ সালের মে থেকে ১৩টি অতিদরিদ্র পরিবারকে নিয়মিত খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে মাসে ব্যয় হচ্ছে ২৪ হাজার ৮০০ টাকা। সুবিধাভোগী নির্বাচনে পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা ও সরকারি ভাতার তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়।

 

খাদ্যসহায়তা পাওয়া পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হামজুর রহমান বলেন, “সংসারে আয় করার মতো কেউ নেই। নিজের চিকিৎসার খরচই চালাতে পারি না। গত ছয় মাস ধরে এ সংগঠনের খাদ্যসহায়তা দিয়ে আমাদের দুজনের সংসার ভালোভাবে চলছে।”

 

স্ট্রোকে আক্রান্ত রোকেয়া খাতুন বলেন, “প্রতি মাসের ২ তারিখে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী পাই। তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চলে।”

 

ধর্মদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবু তালেব বলেন, শিক্ষার্থীদের সহায়তা থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণে সংগঠনটির উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

 

সংগঠনের প্রথম উদ্যোক্তা এম. জি. আযম (জুলিয়ান) বলেন, “আমরা শুধু সনদধারী শিক্ষিত তরুণ হতে চাইনি; শিক্ষার আলো দিয়ে ধর্মদহকে আদর্শ গ্রামে রূপান্তর করতে চেয়েছি।”

 

অন্যতম উদ্যোক্তা অধ্যাপক ড. সাজেদুল ইসলাম জানান, সংগঠনটি অরাজনৈতিক অবস্থান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সাত দফা মূলনীতি গ্রহণ করেছে। পিএইচপি গ্রুপের অর্থায়নে আগামী নভেম্বর থেকে খাদ্যসহায়তার আওতায় পরিবার ১৩টি থেকে বাড়িয়ে ১৭টি করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১৬টি সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে স্বাস্থ্যকার্ড দিয়ে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং ভবিষ্যতে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ৩ লাখ ২৪ হাজার ২৯০ টাকা অনুদান সংগ্রহের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৭২ হাজার ২৯০ টাকা।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর