কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গোৎসব

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় ২৫৮ মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গোৎসব। গতকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার শ্মশানঘাট, ঘোড়ারঘাট ও পূন্যবাবুর ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব। আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো বিসর্জন।

 

গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গোৎসব। শেষ দিনে সকাল থেকেই কুষ্টিয়ার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নতুন পোশাক পরে মণ্ডপে আসে শিশুরাও। পূজা দেখা শেষে ফেরার পথে মণ্ডপের আশপাশে বসা অস্থায়ী দোকান থেকে খাবার ও বিভিন্ন সামগ্রী কেনেন দর্শনার্থীরা।

 

বিজয়া দশমীতে মন্ত্রপাঠ ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দেবীর আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে অশুভ শক্তির বিনাশ হবে এবং পৃথিবীতে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হবে।

 

এ বছর কুষ্টিয়া জেলায় ২৫৮টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বিজয়া দশমী উপলক্ষে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান।

 

দর্শনার্থীরা জানান, দুর্গাপূজা তাঁদের কাছে আনন্দ ও মিলনমেলার উৎসব। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে প্রতিমা ও সাজসজ্জা উপভোগ করেছেন তাঁরা। তবে বিজয়া দশমীতে দেবীকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে তাঁদের মনে কিছুটা বিষাদের অনুভূতিও তৈরি হয়।

 

প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রধান তিনটি বিসর্জনঘাট—শ্মশানঘাট, ঘোড়ারঘাট ও পূন্যবাবুর ঘাট—পরিদর্শন করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসানের নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসান, তাহমিদ মোস্তফা হাসান ও জাকিউল আলম ঘাটগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

 

এদিকে পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় জেলার বিসর্জনঘাটগুলোতে দায়িত্ব পালন করেন পুলিশ ও এসআরবির সদস্যরা। প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং বিসর্জনের রুটগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করেন পৌরসভার কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। বিসর্জন কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত ছিল।

 

পূজা উদ্যাপন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।

 

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সবার মধ্যে আনন্দ ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করে। আগামী দিনেও যেন সবাই মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে এ উৎসব উদ্যাপন করতে পারি, সেটাই প্রত্যাশা।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর