কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

খেলাধুলা যুবসমাজকে মাদক ও নেতিবাচক কর্মকান্ড থেকে দুরে রাখে: জাকির সরকার

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ছন্দময় বৈঠার টানে নদীর বুক চিরে ছুটে চলেছে সারি সারি নৌকা, আর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। প্রায় চার বছর পর কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে অনুষ্ঠিত নৌকাবাইচ ঘিরে ফিরে এসেছে সেই চিরচেনা লোকজ আমেজ; নদীর তীরে বসেছে গ্রামীণ মেলা, আর মানুষের মিলনমেলায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে হারিয়ে যেতে বসা বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। নৌকাবাইচকে ঘিরে নদীতীরে বসেছে গ্রামীণ মেলাও। এতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে ঘোড়াই ঘাট থেকে হরিপুর ব্রিজ এলাকা পর্যন্ত।

গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠানের ২য় দিনে  নৌকাবাইচ দেখতে গড়াই নদীর তীরে ভিড় করতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপলক্ষে ২য় দিনের আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির আহবায়ক ও কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইমরান হোসেন ইউনুস এর সভাপতিত্বে ও দি কুষ্টিয়া চেম্বারের পরিচালক ফুহাদ রেজা ফাহিম এর পরিচালনায় এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী মসলেম উদ্দিন এর সার্বিক তত্বাবধানে খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

তবে আজ রবিবার শেষ হচ্ছে এই প্রতিযোগিতা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন প্রধান, জেলা বিএনপির সদস্য আবু তালেব, কয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মালিথা প্রমূখ। এসময় জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা চাই আমাদের সমাজে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হোক। তরুণ প্রজন্ম খেলাধুলা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এছাড়া, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, আজকের এই আনন্দঘন নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার ২য় দিনে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। আমাদের এই নদী, আমাদের এই মাটি, আমাদের গ্রামবাংলার জীবন, এসবের সঙ্গে নৌকা বাইচের সম্পর্ক বহু পুরোনো। নৌকা বাইচ শুধু একটি খেলা নয়; এটি আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সংস্কৃতি এবং আমাদের শেকড়ের সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি।

তিনি আরো বলেন, নদীর দুই পাড়ে যে মানুষের ঢল নেমেছে, নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধ, শিশু-কিশোর, সবার মাঝে যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখছি, সেটিই প্রমাণ করে আমাদের লোকজ সংস্কৃতি এখনো মানুষের হৃদয়ে কতটা জীবন্ত। আমি বিশেষভাবে আমাদের তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, খেলাধুলার সঙ্গে থাকুন, সংস্কৃতির সঙ্গে থাকুন, মাদক ও সব ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকুন। আপনারাই আমাদের আগামী দিনের শক্তি। এদিকে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন অনেকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর বুকে নৌকা ছুটে চলার সঙ্গে সঙ্গে তীরে থাকা দর্শকরাও উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। প্রিয় নৌকা এগিয়ে গেলে করতালি, স্লোগান ও উল্লাসে মাঝিদের উৎসাহ দেন তারা। বৈঠার ছন্দ আর নৌকার গতির সঙ্গে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে গড়াই নদীর দুই পাড়। তিন দিনব্যাপী নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে নদীর তীরে বসেছে গ্রামীণ মেলাও। মেলায় দেশীয় খাবার, খেলনা ও বিভিন্ন সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে দেখা যায় অনেককে। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী এ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর