কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কেউ চাহিদামতো সার না পেয়ে আবার কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সার না পেয়ে কৃষি কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলার পয়েন্টের কর্মকর্তা – কর্মচারীদের সঙ্গে দফায় দফায় হট্টগোলে জড়ালেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর যদুবয়রা ইউনিয়নের কৃষকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিসিআইসির যদুবয়রা ইউনিয়নের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
কৃষকদের অভিযোগ, মেসার্স লেক্সাস ইন্টারন্যাশনাল নামক যদুবয়রা বিসিআইসির ডিলার সকাল ১০টা বা ১১টার আগে দোকান খোলেনা। আবার খুললেও চাহিদামতো সার দেয়না। অথচ বস্তা প্রতি ৩০০ – ৬০০ টাকা বেশি দিলেই সাব ডিলাররা চাহিদামতো সার দিচ্ছেন। সকাল ১১টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, যদুবয়রার লালনবাজার – পান্টি সড়কের নিদেনতলা এলাকায় একটি বহুতল ভবনের নিচতলার রয়েছে ডিলার পয়েন্টের দোকান।
শতাধিক কৃষক লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তখনও দোকানের সাটার বন্ধ। ১১টা ৯ মিনিটের দিকে দোকান খুললেন ডিলারের কর্মকর্তা – কর্মচারীরা। সেখানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার, দেবাশীষ দত্ত ও মিনহাজুল ইসলাম রয়েছেন। তারা কৃষকদের লাইন ঠিক করছেন। সেখানে প্রথমে দোকান খুলতে দেরি হওয়ায় এবং লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কয়েকদফা হট্টগোল শুরু দেখা যায়। এরপর চাহিদামতো সার না পেয়ে এবং দোকানে সারের মজুদ শেষ হয়ে গেলে কয়েকদফা হট্টগোল দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।
এ সময় উত্তেজিত হয়ে নিদেনতলা এলাকার কৃষক মুন্তাজ শেখের ছেলে তজিম উদ্দিন বলেন, ‘ সাড়ে তিন বিঘে ধান। সকাল ৬টার তে দাঁড়া আছি। বেলা বাজে ১২টা। এহন কয় সার নাই। নাই চিল্লাই করব কি?” জোতমোড়া গ্রামের কৃষক মো. জিন্না শেখ বলেন, গতল (বুধবার) সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে সার পাইনি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) আবার সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থেকেও সার (টিএসপি) পেলাম না। কৃষি অফিসাররা নাম লিখে নিয়ে বলল, শনিবার আসেন। সাব ডিলাররা এখান (ডিলার পয়েন্ট) থেকে সার নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগ করেন দহখোলা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ।
তিনি বলেন, এক হাজার ৩৫০ টাকার টিএসপি সাব ডিলার নিচ্ছেন দুই হাজার টাকা। ডিএপির বস্তা প্রতি এক হাজার ৮০০ টাকা, এমওপি এক হাজার ৩০০ টাকা এবং ইউরিয়া বিক্রি করছে এক হাজার ৬০০ টাকা বস্তা। তবে তিনি কোনো সাব ডিলারের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। বেড়মানিক গ্রামের বাচ্চুর ছেলে ফয়সাল হোসেন বলেন, মাঠে সাড়ে চার বিঘা ধান। সারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। অথচ ডিলার সার দেয়না। সাব ডিলাররা বেশি দাম নেয়। নাম বললেও সমস্যা।
এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সার চাষাবাদ হয়না। প্রায় আট বিঘা জমিতে ধান, সবজি কলার চাষ করছেন লক্ষীপুর গ্রামের কৃষক বয়োজ্যেষ্ঠ সালামত আলী বিশ্বাস। তিনি বলেন, বড়ো মানুষ ভিড়ের ভিতরে যাতি পাচ্ছিনে। দুজনের জন্য এক বস্তা করে সার দিচ্ছে। সকালতে অন্তত ৫০ বের মারামারি হয়ছে। অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার পয়েন্টের ব্যবস্থাপক আবু মুসা বলেন, এই মাসে টিএসপি সারের বরাদ্দ ৬৭ বস্তা। কৃষক আসে লাইনে আছে ২০০ জন।
তাহলে পুজাবো কিভাবে? তার ভাষ্য, বরাদ্দ অনুযায়ী সার দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মাসে যদুবয়রা ইউনিয়নে ইউরিয়া -৪৩ মেঃ টন, টিএসপি- ৩ দশমিক ৩৫ মেঃ টন, ডিএপি- ১১ দশমিক৭ মেঃ টন ও এমওপি-৫ মেঃ টন বরাদ্দ রয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, সারের কোনো সংকট নেই। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কৃষকরা হট্টগোল করেছিল। তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। যারা পরে এসেছিল তাদের ২১ জনের নামের তালিকা করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের আগে সার দেওয়া হবে।









