কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

শরিয়াবিরোধী আইন থেকে ফিরে না এলে প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হবো: চরমোনাই পীর

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন দাবিতে লংমার্চ করলেও পরে সংসদে দলটির আমীরের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সেই কর্মসূচির দাবির মিল নেই। এতে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানে দ্বিমুখিতা দেখা যাচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের ফজলুল উলম মাদ্রাসার আল কারী মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন জেলা শাখার কর্মী প্রত্যাশী তারবিয়াত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। চরমোনাই পীর আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন দাবিতে লংমার্চ করেছে। কিন্তু লংমার্চ থেকে ফিরে দলটির আমীর সংসদে বলেছেন, বিদ্যুতের সমস্যা বর্তমান সরকারের সৃষ্টি নয়।

তাহলে প্রশ্ন হলো, এতো তেল-গ্যাস পুড়িয়ে লংমার্চ করার প্রয়োজন কেন হলো? একদিকে লংমার্চ, অন্যদিকে সংসদে ভিন্ন বক্তব্য, এমন দ্বিমুখী আচরণ কেন? তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের লোগো থেকে ‘আকিমুদ্দীন’ কথাটি সরিয়ে ফেলেছে। ফলে সেখানে ইসলাম শব্দটিও আর থাকছে না। এ কারণে দলটিকে ইসলামী দল বলা যায় কি না, সে প্রশ্নও রয়েছে। রেজাউল করীম বলেন, গত নির্বাচনের ইশতেহারেও জামায়াত ইসলাম অনুযায়ী দেশ পরিচালনার কথা বলেনি।

বরং জামায়াতের আমীর সে সময় বলেছিলেন, তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবেন না, প্রচলিত আইন অনুযায়ী দেশ চালাবেন। সব মিলিয়ে জামায়াতকে আর ইসলামী দল বলা যায় না। বিএনপির সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের আমীর বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি ওয়াদা করেছিল, ক্ষমতায় গেলে শরিয়াবিরোধী কোনো আইন করবে না। কিন্তু সেই ওয়াদা তারা রাখছে না। ইতোমধ্যে সংসদে শরিয়াবিরোধী আইন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তারা এসব আইন থেকে ফিরে না এলে ইসলামী আন্দোলন প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হবে। বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে রেজাউল করীম বলেন, গত নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন ছিল। তারপরও তারা বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার আমলের চেয়েও বর্তমান সরকার দেশকে খারাপ দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। তিনি বলেন, মনে হচ্ছে, পাতি শৃগালের কাছে মুরগি বর্গা দিয়েছি আমরা।

দেশ পরিচালনায় দুর্নীতি বন্ধ এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে ইসলামী আন্দোলন রাজপথে প্রতিবাদ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি শেখ সাইফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি আব্দুল্লাহ আখন্দ, সেক্রেটারি জেনারেল জিএম তৌহিদ আনোয়ারসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলার উদ্যোগে কর্মী প্রত্যাশী তারবিয়াত অনুষ্ঠিত। জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ্ আখন্দ সাহেবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন মুহতারাম আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি শেখ সাইফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় আমীর কুষ্টিয়া জেলায় স্থানীয় নির্বাচনের জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত ৪ জন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৩ জন পৌরসভা মেয়র প্রার্থী ও ৩৪ জন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী কুমারখালী উপজেলা-ডাঃ গোলাম সরোয়ার মিরপুর উপজেলা- আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম ভেড়ামারা উপজেলা- আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম বাবলু দৌলতপুর উপজেলা মেহেদী হাসান । পৌরসভা মেয়র প্রার্থী কুষ্টিয়া পৌরসভা-আমিনুল ইসলাম মুলতান ভেড়ামারা পৌরসভা- মুফতি হাবিবুল্লাহ বেলালী মিরপুর পৌরসভা- মোঃ আমিরুল ইসলাম (অবঃ বিডিআর)।

 

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর