ইবি প্রতিনিধি ॥ আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করছে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা। গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনের করিডোরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে সুবিধাবঞ্চিত ও বিভিন্ন বয়সী শিশুরা অংশ নেয়।
তাদের হাতে খাতা-কলমসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিয়মিত পড়াশোনা করার জন্য উৎসাহিত করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদ হোসেন বলেন, “শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে আমাদের এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ।
আমরা চাই, প্রতিটি শিশু যেন স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়।” বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইবির সভাপতি রবিউস সানি জোহা বলেন, “সাক্ষরতা শুধু পড়া-লেখা শেখা বা জানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি একজন মানুষকে সচেতন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি। একটি শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি খাতা-কলম হয়তো আমাদের কাছে খুব সাধারণ একটি বিষয় কিন্তু কোনো সুবিধাবঞ্চিত শিশুর কাছে এটি হতে পারে তার স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে আমাদের এই ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের মাঝে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ও আনন্দ সৃষ্টি করাই মূল উদ্দেশ্য।” উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হয়।
ব্যক্তিগত ও সামাজিক উন্নয়নে সাক্ষরতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দিবসটি পালন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে এবং সমাজে শিক্ষার আলো আরও বিস্তৃত হবে। ভবিষ্যতেও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও মানবিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।









