খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ১:৩০ এএম

ইবি প্রতিনিধি ॥ পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতার অভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অ্যাকাডেমিক ভবন, আবাসিক হল ও বিভিন্ন দপ্তরের শৌচাগারের অবস্থা নাজেহাল হয়ে পড়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ময়লা-আবর্জনায় শৌচাগারগুলোর অকেজো ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ব্যবহার অযোগ্য এসব শৌচাগার পরিষ্কার করার জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট থাকলেও ২০ বছরেও কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
সরজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ভবন ও আবাসিক হলসহ মোট ১৯টি ভবন রয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, চিকিৎসাকেন্দ্র ও কেন্দ্রীয় মসজিদ রয়েছে। এসব ভবনের প্রায় প্রতিটি ভবনেই নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে শৌচাগারগুলো। কিছু শৌচাগারের দরজারও ঠিক নেই। পর্যাপ্ত ট্যাপ ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও নেই অনেক জায়গায়। বেসিনগুলো নিয়মিত ব্যবহার না করায় ময়লা- আবর্জনা পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে।
তাছাড়া নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে শৌচাগারে ব্যবহৃত টিস্যু জমে আছে। এমনকি ব্যবহৃত টিস্যু ফেলার জন্যেও পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই। বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবনের শৌচাগারের ভেতরে ও বাইরে খাতা, নোট, শিট, পরীক্ষার প্রশ্ন এবং বইসহ ময়লার স্তূপ দেখা যায়। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি হলে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন শিক্ষার্থী বাস করছেন। নিয়মিত শৌচাগারগুলো পরিষ্কার না করায় এসব শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুমানিক ১ হাজার ৮০০-এর ওপরে শৌচাগার রয়েছে। এসব শৌচাগার পরিষ্কার করার জন্য পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছেন মাত্র ১২ জন। এর মধ্যে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে কাজ করতে পারেন না। ফলে ১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ১৫০টি শৌচাগার পরিষ্কারের কাজ করতে হয়। এছাড়া এসব শৌচাগার পরিষ্কার করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে বছরে মাত্র ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ফলে এত কম বেতনে এত শৌচাগার পরিষ্কারের কাজ করা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য কষ্টসাধ্য। কম বেতনে দিয়ে এই কাজ অব্যাহত রাখা খুবই কষ্টকর বলে জানিয়েছে এস্টেট শাখা। এদিকে সংস্থাপন শাখা সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদ সংখ্যা ৫৫টি থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ৩৫ জনকে। এদের মধ্যে কেউ কেউ অবসরপ্রাপ্ত এবং কেউ মারা যাওয়ার ফলে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ জনের কাছাকাছি। সর্বশেষ ২০০৬ সালে পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
এরপর কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা সুইপার নিয়োগ দেয়নি প্রশাসন। তবে নিয়োগকৃত ২৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মধ্যে এ কাজ করছেন মাত্র ১২ জন। বিশ্ববিদ্যালয় এস্টেট শাখার দাবি, বাকি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দিয়ে করা হচ্ছে পিয়নের কাজ। এই বিষয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম রাকিব বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শৌচাগার নিশ্চিত করা বিলাসিতা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ। দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট এবং তদারকির অভাবে শৌচাগারগুলোর পরিবেশ দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
প্রশাসনের উচিত দ্রুত জনবল বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা। ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী আদিয়াত আদিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো আমাদের দ্বিতীয় বাড়ি। কিন্তু অ্যাকাডেমিক ভবন ও হলের অনেক শৌচাগারের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এগুলো ব্যবহার করতে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে শৌচাগারগুলো ব্যবহার উপযোগী করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের দাবি জানাই।
নিয়মিত পরিষ্কার ও তদারকির অভাবে এসব শৌচাগারে জন্ম নিচ্ছে নানান রকমের রোগ-জীবাণু, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই ফাংগাস বা চুলকানি জাতীয় বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। এ রোগগুলো সাধারণত শৌচাগার অপরিষ্কার থাকার কারণে হয়ে থাকে। তাই শিক্ষার্থীদের সুস্থতার জন্য শৌচাগারগুলো পরিষ্কার রাখা দরকার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস প্রধান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের শৌচাগারগুলো বেহাল। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। মাত্র ১২ জন লোকবল নিয়ে এতগুলো শৌচাগার নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। নতুন ভবনসহ সব ভবনগুলোর শৌচাগারে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সর্বনিম্ন ৫০ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য