খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুলাই ২০২৬, ৩:৪১ এএম

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া গ্রামে বিরোধপূর্ণ ও মামলাধীন জমি দখলচেষ্টা, আদালতের বিচারাধীন জমিতে রাস্তা নির্মাণ এবং দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সদস্যকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিবাদী আনোয়ার হোসেন আনারের ভাসতে শামীমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী অনিক বিশ্বাস কুষ্টিয়া মডেল থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, গত ১৭ জুন সকাল ১১টার দিকে আনোয়ার হোসেন আনার, জাহানারা শান্তী ও শামীম সহ ১০-১৫ জন লোক নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে বাঁশের বেড়া দিতে শুরু করেন।
বাধা দিলে তাকে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তেড়ে এলে তিনি দৌড়ে আত্মরক্ষা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনার পর গত ২৮ জুন দহকুলা পুলিশ ক্যাম্পে এসআই আব্দুল সাত্তারের উদ্যোগে উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জমির মালিকানা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় মামলার নিষ্পত্তি বা সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো ধরনের রাস্তা নির্মাণ বা স্থায়ী কাজ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। শুধু বৃষ্টির পানিতে কাদা জমে চলাচলে সমস্যা হওয়ায় কয়েকটা নিচু অংশ সামান্য সমান করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সিদ্ধান্ত অমান্য করে আনোয়ার হোসেন আনার পরে মামলাধীন জমিতে রাস্তার আকৃতিতে বালু ফেলে ভরাট করেন। পরবর্তী বৈঠকের দিন ধার্য ছিল ১৫ জুলাই। ওই দিন বাদীপক্ষ উপস্থিত থাকলেও বিবাদীপক্ষ উপস্থিত হননি। এ সময় বাদীপক্ষ বালু ফেলার ভিডিওচিত্র এসআই আব্দুল সাত্তারকে দেখালে তিনি মুঠোফোনে আনোয়ার হোসেন আনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এসআই আব্দুল সাত্তার জানতে চান, নিচু জায়গা সামান্য সমান করার কথা থাকলেও কেন রাস্তার মতো করে বালু ফেলা হয়েছে।
জবাবে আনোয়ার হোসেন আনারের ভাসতে শামীম বলেন, আমার কাছে যখন হাইকোর্টের নোটিশ আসবে, তখন ছাড়া এর আগে কেউ যদি এই বালু সরাতে আসে তাহলে তাকে দেখে নেব। কারও যদি ক্ষমতা থাকে, এখানকার বালু সরাক। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেব। আর যদি প্রশাসনও আসে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও কমপ্লেন হবে। অভিযোগকারী অনিক বিশ্বাসের দাবি, আদালতে বিচারাধীন জমিতে একতরফাভাবে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা আদালত ও প্রশাসনের নির্দেশনার পরিপন্থী। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন আনোয়ার প্রতিবেদকের প্রশ্নে উত্তেজিত হয়ে বলেন, বাপেরও বাপ আছে। সংবাদ প্রকাশ করবেন, তাতে কী হয়েছে? আমিও দেখে নেব। তিনি আরও বলেন, পথ দখল করেছি, তাতে কী হয়েছে। অভিযুক্তের এমন বক্তব্যকে হুমকিমূলক বলে মনে করছেন অভিযোগকারী। আনোয়ার হোসেন আনোয়ারের ভাসতে শামীম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ সদস্য আমাকে এখান থেকে বালু সরাতে বলেছিলেন, তাই আমি রেগে গিয়ে তাকে এ কথা বলেছি। এছাড়া অন্য কাউকে আমি হুমকি ধামকি দেয়নি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, জায়গা জমির বিষয়ে তাদের যদি আদালতে মামলা চলমান থাকে সে ক্ষেত্রে তারা এই বিষয়টি আদালতে সমাধান করবে। আমার পুলিশ সদস্য যদি হুমকি দেয়ার বিষয়ে কোন জিডি বা অভিযোগ দায়ের করেন তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য