খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই জুলাই ২০২৬, ৩:৩৮ এএম

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘দলিল লেখক সমিতি’র এক অভিনব ও বিশাল অঙ্কের অর্থ লুটপাটের চক্রান্ত ফাঁস হয়েছে। সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে এবং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রতি মাসে প্রায় ২ কোটি টাকা অবৈধ চাঁদা আদায়ের এক মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। এই সিন্ডিকেট বাণিজ্যের মূল লক্ষ্য-জনগণের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভারী করা। অনুসন্ধানে জানা যায়, মিরপুর দলিল লেখক সমিতির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।
জমি কেনাবেচা, দলিল লিখন এবং রেজিস্ট্রেশনের প্রতিটি ধাপে সাধারণ মানুষকে বাধ্য করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের একটি সুনির্দিষ্ট ‘খাত’ বা চার্ট তৈরি করা হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত ফি-র বাইরে প্রতিটি দলিলের জন্য ১০ হাজার টাকা করে সিন্ডিকেটের ফান্ডে জমা দেওয়ার নিয়ম করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দলিল প্রতি ২শ’ টাকা করে জমা নেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাতে দিনে ২০ হাজার টাকা সমিতির ফান্ডে জমা হচ্ছে। সিন্ডিকেটের নিয়ম না মানলে দলিল লেখকদের কাজ করতে বাধা দেওয়া এবং সাধারণ গ্রাহকদের নানা অজুহাতে হয়রানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতি মাসে হওয়া দলিলের গড় হিসাব কষে এই সিন্ডিকেট ন্যূনতম ২ কোটি টাকা তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই চক্রান্তের খবর জানাজানি হতেই মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সাধারণ দলিল লেখক জানান, “কিছু অর্থলোভী দলিল লেখকের কারণে মিরপুরে দলিল লেখক সমাজের বদনাম হচ্ছে। বিগত সময়ের ন্যয় এই সিন্ডিকেট চালু হলে সাধারণ মানুষ জমি রেজিস্ট্রি করতে এসে আবারও চরম ভোগান্তিতে পড়বেন, আর দোষ হবে আমাদের। আমরা এই চাঁদাবাজির পরিকল্পনা ধূলিসাৎ করার দাবি জানাচ্ছি।” তারা আরোও জানান, ৫ই আগষ্টের পূর্বের গঠিত সমিতিতে প্রায় ৩০-৩৫ লক্ষ টাকা জমা ছিল। কিন্তু প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথেই উক্ত সমিতিতে জমাকৃত ৩০-৩৫ লক্ষ টাকা গায়েব হয়ে যায়। সেই টাকার আর কোন হদিস মেলেনি।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ বলছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে যখন সব সেবা সহজ করার কথা, তখন এই ধরনের এনালগ সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির চক্রান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজনে আমরা সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব। আইন-কানুন এবং নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তৈরি করা এই ‘চাঁদা আদায়ের মহোৎসব’ রুখতে এখনই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পুরো চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এব্যাপারে দলীল লেখক সমিতির সভাপতি হাবি মৌহরী জানান, কিছু কিছু দলিল লেখক আছে তারা অল্প টাকাতে দলিল সম্পাদন করে পরিবেশ নষ্ট করছে। পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয় সে ব্যপারটা মাথায় রেখে বেশ কিছু দলিল লেখকদের নিয়ে আমরা একটি সমিতি করেছি। সমিতির কল্যাণে ২শ’ টাকা করে আপাতত আদায় করা হচ্ছে। দলিল প্রতি ১০’ হাজার করে টাকা আদায়ের পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন বিগত সময় থেকে এটা হয়ে আসছে। ৫ই আগষ্ট পরবর্তী সময় থেকে বন্ধ রয়েছে। তাহলে এখন কেন ১০ হাজার টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে হাবি মৌহরী কোন সদোত্তর দিতে পারেনি।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য