ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করল পাউবো - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করল পাউবো

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১১, ২০২৬

বাঁধ কেটে বালু উত্তোলন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় গড়াই নদীর তীররক্ষা বাঁধ কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সরকারি কোটি টাকার প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত করে বালু উত্তোলনের অভিযোগে প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া ওঅ্যান্ডএম বিভাগের আওতায় গড়াই নদীর ডান তীরে গণেশপুর এলাকায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে “গড়াই নদী ড্রেজিং এবং তীর সুরক্ষা” প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১.৬৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্লক ও জিও-ব্যাগ ফেলে নদীভাঙন প্রতিরোধ কাজ করা হয়।

প্রকল্পটির প্যাকেজ নম্বর এজউচথড৪ খড়ঃ-২। গত ৩ মে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা দেখতে পান, একদল ব্যক্তি বাঁধের অ্যাপ্রন অংশ কেটে এবং জিও-ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত করে বালু উত্তোলনের রাস্তা তৈরি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বালু লোড-আনলোডের সুবিধার্থে বাঁধের ঢাল কেটে ফেলা হয়েছে, যা সরাসরি সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টের শামিল। এ ঘটনায় খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পানি উন্নয়ন শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শামসুর রহমান। অভিযোগে তিনি সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে চারজনকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তারা হলেন— গণেশপুর গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মোঃ মনিরুল ইসলাম (৪০), রাজাপুর গ্রামের মোঃ আনোয়ার আলীর ছেলে মোঃ জুয়েল আহমেদ (৪২), আজইল গ্রামের মৃত নসকারের ছেলে মোঃ জহির উদ্দিন (৫০) এবং আজইল গ্রামের মোঃ আনসারের ছেলে মোঃ ইব্রাহিম হোসেন (৩৫)। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তরা দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙে গেলে নিকটবর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, খেলার মাঠ, বাজার এবং শত শত বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মোঃ রাশিদুল রহমান বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদীভাঙন রোধে কাজ করছে। অথচ ব্যক্তিগত স্বার্থে বাঁধ কেটে বালু উত্তোলন করা হলে পুরো প্রকল্প হুমকির মুখে পড়বে। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অনুরোধ জানিয়েছি। খোকসা থানার ওসি মোঃ জাকির হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি স্থানীয় এসিল্যান্ড ও রাজস্ব শাখার সঙ্গেও সম্পৃক্ত। অভিযোগটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।