বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় পরিচিত শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এইচ. এস. কল্লোল এর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও শিশুদের ওপর উচ্চমাত্রার ওষুধ প্রয়োগের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক অভিভাবকের পোস্টকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসাসেবা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী অভিভাবক আমিন হাসান সম্প্রতি তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, ডা. এইচ. এস. কল্লোল কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল ও সনো টাওয়ারে নিয়মিত রোগী দেখেন এবং শিশুদের ক্ষেত্রে অতি শক্তিশালী ওষুধ ও ইনজেকশন ব্যবহার করেন। তার দাবি, এসব উচ্চমাত্রার ওষুধ প্রয়োগের ফলে অনেক শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিস্থিতি জটিল হলে রোগীদের দ্রুত কুষ্টিয়ার বাইরে রেফার করা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য চিকিৎসকদের কাছে গেলে ব্যবহৃত ওষুধের মাত্রা দেখে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন বলেও দাবি করা হয়। এমনকি কিছু শিশু আইসিইউ ও লাইফ সাপোর্টে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই মন্তব্যে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সনি আজিম নামে একজন মন্তব্য করেন, “উনি ডাক্তার না কসাই।”
বাদশা আলমগীর লেখেন, অতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগে শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তি দাবি করেন। শেখ নাজমুল হোসেন জানান, অতীতে তার পরিবারের সদস্য ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন আইসিইউতে ছিলেন। অন্যদিকে, কিছু মন্তব্যে চিকিৎসকের পক্ষেও মত দেওয়া হয়েছে। চৌধুরী এলিকা নামে একজন মন্তব্য করেন, ডা. কল্লোল একজন সৎ ও পরহেজগার চিকিৎসক। অভিযোগের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে একটি ‘বৈশাখী ক্লিনিক’ এর অ্যাডমিশন ফর্মও প্রকাশ করা হয়েছে।
সেখানে দেখা যায়, গত ১২ এপ্রিল কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড় এলাকার বাসিন্দা আমিন হাসান তার ১৪ মাস বয়সী শিশু সন্তান মো. রাফসানকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। ফর্ম অনুযায়ী, বেড ভাড়া, রাউন্ড ফি ও অন্যান্য খরচসহ মোট বিল দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজার ৮শ টাকা। চিকিৎসা চলাকালে শিশুটিকে পরবর্তীতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আমিন হাসান বলেন, চিকিৎসার পর তার সন্তান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরে বাইরে উন্নত চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. এইচ. এস. কল্লোলের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সেবা ও বেসরকারি ক্লিনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহল বলছে, অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি এবং দোষী প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
