বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) বিপ্লবী নেতা কমরেড আব্দুর রউফ মুকুলের শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুরুতে কমরেড মুকুল সহ অন্যান্য প্রয়াত বিপ্লবী নেতাদের প্রতী শ্রদ্ধা জানাতে ১ মিনিট নিরবতা পালন করেন। কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল পরিবেশন করেন ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ কুষ্টিয়া জেলা আহ্বায়ক গীতিকার আজব আলী নেতৃত্বে উপস্থিত সকলে সমস্বরে মুখ মেলান ও তার জীবনী পাঠ করা হয়।
প্রসঙ্গত: দীর্ঘ দিন বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগে অবশেষে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ’২৬ সকাল ৯টা ৪০মিনিটে ৭৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রয়াত নেতার মরদেহে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে খুলনায় তাঁকে সমাহিত করা হয়। গতকাল শনিবার (০৯ মে) সকাল ১১টার দিকে দি কুষ্টিয়া চেম্বারের হল রুমে এ শোকসভার আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, সকল রুপের সংশোধনবাদ-সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী আপোষহীন কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিট ব্যুরোর সদস্য তাত্বিক নেতা কমরেড আব্দুর রউফ মুকুল এর স্মরনে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কমরেড আব্দুর রউফ মকুল এর শোকসভা পালন কমিটি কুষ্টিয়ার আহ্বায়ক এ্যাড আব্দুল বারী সভাপতিত্বে শোকসভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দত্ত, বিশেষ আলোচক হিসাবে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ’র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, এছাড়াও আলোচনা করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি মোকতারুল ইসলাম মুক্তি।
ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলা আহ্বায়ক শ্রমিক নেতা এস এম সোলায়মান পারভেজ, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট রাজবাড়ি জেলা সভাপতি রবিউল আলম মিনু, কৃষক সংগ্রাম সমিতি পাবনা জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা করেন ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক পলান বিশ্বাস প্রমুখ। পরিচালনা করেন শোকসভা পালন কমিটি কুষ্টিয়ার যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুল হক আসাদ। এসময় বক্তারা বলেন, প্রয়াত নেতা কমরেড আব্দুর রউফ মুকুল আজীবন শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দেশের প্রগতিশীল রাজনীতিতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বক্তারা তাঁর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান এবং নতুন প্রজন্মকে গণমানুষের অধিকার আদায়ে এগিয়ে আসার কথা বলেন। কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর জীবনের উপর আলোকপাত করে বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিটব্যুরোর সদস্য। তিনি ১৯৫১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানার পদ্মাপাড়ের ফারাকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি দৌলতপুর মহসিন স্কুল থেকে ১৯৬৭ সালে মেট্রিক এবং ১৯৬৯ সালে বিএল কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন। ১৯৬৯-৭০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবস্থায় পার্টি বিপ্লব অগ্রসর করার লক্ষ্যে ব্যক্তিগত সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার মোহ ত্যাগ করে সার্বক্ষণিক কর্মি হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি তাঁর রাজনৈতিক-সাংগঠনিক জীবনে সকল রূপের সংশোধবাদ-সুবিধাবাদ বিরোধী সংগ্রামে আপসহীন অবিচল থেকে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দৃঢ় ভূমিকা রেখেছেন।
