বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জাতীয় সংসদে এমপি আমির হামজা’র বক্তব্যের প্রতিবাদে কুষ্টিয়া সুগার মিলের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৬শে এপ্রিল জাতীয় সংসদে এমপি আমির হামজা কুষ্টিয়া সুগার মিলের জমি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে লীজ প্রদান করা বক্তব্যের বিরুদ্ধে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (১ মে) বিকেল ৪টার দিকে কুষ্টিয়া সুগার মিল গেটে, সুগার মিল চালু করণ ও ইক্ষু রোপণ পরিষদ এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন উক্ত পরিষদের আহবায়ক ও জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল মাজেদ এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব শিপন। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ, ইক্ষু চাষী ও শ্রমিকারা অংশ নেয়।
এসময় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমাদের কুষ্টিয়াবাসীর আবেগ অনুভূতির জায়গা কুষ্টিয়া সুগার মিল। এই কুষ্টিয়া সুগার মিল কুষ্টিয়ার একটা ভারী শিল্প এবং এই সুগার মিলের নামের সাথে সাথে কুষ্টিয়া সারা বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বে পরিচিত। কিন্তু আমরা দেখেছি বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে এই মিলটাকে বন্ধ করে, মিলটার জায়গা ভাগবাটোয়ারা করার জন্য ওই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালে সু-কৌশলে এই সুগার মিলটা বন্ধ করে দেয়।
কিন্তু গত ২০২৪ সালের ৫আগষ্টের পরে আমরা এ দেশের জনগণের সাথে নিয়ে, আমরা ইক্ষু চাষীদের সাথে নিয়ে কর্পোরশনের সাথে যোগাযোগ করে আমরা জানতে পারি, এখানে যদি ইক্ষু অধিক পরিমান হয়, অর্থাৎ মিল চালু করার জন্য ৭০ হাজার মেট্রিকটন বা তার অধিক আখ এখানে হয় তাহলে মিলটি চালু করা সম্ভব। সেই লক্ষ্যে বিগত ২বছর যাবৎ আমরা এই এলাকায় আখ চাষ বাড়ানোর জন্য আখ চাষীদের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেছি। এই মিল চালুর ব্যাপারে চাষীদের সাথে মতবিনিময় করেছি। আমাদের প্রচেষ্টায় এবার ২হাজার একর জমিতে আখ চাষ হচ্ছে। সফলভাবে আখ চাষ হলে ২হাজার একর জমি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিকটন আখ পাওয়া যাবে।
তবে উন্নত জাতের আখ চাষ করা গেলে প্রতি একরে ৬০ মেট্রিকটন আখ উৎপাদন করা যাবে। এটা যদি আমরা করতে পারি তাহলে মিল চালু করতে সহজ হবে। আমরা মিল চালুর লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় আপনারা দেখেছেন, অতীতে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট চক্র যেইভাবে এই মিলটা বন্ধ করে দিয়ে, এই জায়গা ভাগবাটোয়ারা করার চেষ্টা করেছিলো, আমাদের বর্তমান কুষ্টিয়ার এমপি সেই চক্রে অংশ নিয়েছেন। উনি যখন জনগণের কাছে ভোট চেয়েছেন, তখন উনার ইশতেহারে বলেছিলেন এই সুগার মিল চালু করবেন। কিন্তু উনি নির্বাচিত হওয়ার পরে ওই মহান সংসদে উনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, উনি বলেছেন এই মিলের ৭৫০ বিঘা জমি উনি বিদেশীদের হাতে তুলে দিতে চান।
আমরা বলতে চাই আমাদের গায়ে এক ফোটা রক্ত থাকা সত্বেও এই মিলের এক বিঘা জমিও কারো কাছে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। আমরা এই মিলটি চালু করতে চাই। এই মিল এদেশের জনগণের, কৃষকের, দিনমজুরের। এদেশের একজন মানুষও বেঁচে থাকতে ওই এমপি আমির হামজা এই সুগার মিলের ৭৫০ বিঘা কেনো? ১ বিঘা জমি কারো কাছে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। আপনি ভোটের সময় বলেছিলেন মিল চালু করবেন, আর এখন সংসদে গিয়ে বলছেন, মিলের জমি লিস দেবেন।
এদেশের মানুষ এটা হতে দিবে না। আপনাকে এর জবাব দিতে হবে। এদেশের সাধারণ মানুষের কাছে, ওই সংসদে কুষ্টিয়ার মানুষের কাছে, সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে এর জবাব দিতে হবে। আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী দিনে উন্নত জাতের আখ চাষ করে দুই হাজার একর জমিতে ১লাখ ২০হাজার মেট্রিকটন আখ চাষ করে পুনরায় মিল চালু করবো ইনশাআল্লাহ।
