কুষ্টিয়া বিআরটিএ অফিসে টাকা না দিলে হয়না কোনো কাজ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়া বিআরটিএ অফিসে টাকা না দিলে হয়না কোনো কাজ 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২৯, ২০২৬

পরীক্ষা ছাড়াই মেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া বিআরটিএ আফিসে ভোগান্তির শেষ নেই। ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে একাধিকবার ধরনা দিতে হয় বিআরটিএ অফিসে। টাকা ছাড়া মেলে না গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট। দালাল ধরে টাকা দিলে পরীক্ষা ছাড়াই মেলে ড্রাইভিং লাইসেন্স।

কুষ্টিয়া বিআরটিএ অফিসের ১০৫ নং রুম ও ৩য় তলায় রয়েছে  দালাল চক্রের অফিস। এ দালাল চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে মুরাদ, রিয়াজ, আব্দুর রাজ্জাক ও জুয়েল তারা নিজের বিআরটিএ এর অফিস স্টাফ পরিচয় দিয়ে ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ ও কুষ্টিয়া সার্কেল এর সহকারি পরিচালক মাহাবুব রব্বানীর হয়ে অর্থ লেন দেন করে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা।

লাইসেন্স করার একটি আবেদন ফরম নিয়ে গত বুধবার কুষ্টিয়া বিআরটিএ অফিসে গেলে রিয়াজ নামের এক দালাল প্রতিবেদকের কাছে এসে কথা বলতে শুরু করেন। কিছু সময় পর তিনি বলেন, ‘আপনি হালকা যান সহ মটরসাইকেলের লাইসেন্স করতে চাইলে ১১ হাজার টাকা দিয়ে ছবি ও আঙুলের ছাপ দিয়ে চলে যান। আপনার লাইসেন্স হয়ে যাবে।’  এরপর একে একে আব্দুর রাজ্জাক, মুরাদ, জুয়েলসহ আরও বেশ কয়েকজন দালাল এসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চান লাইসেন্স করে দেওয়ার জন্য।

তাঁদের কাছে জানতে চাইলে বলেন, অফিসের ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ এর মাধ্যমে তাঁরা লাইসেন্স করে থাকেন। প্রতিটি লাইসেন্সের জন্য তাঁদের কমপক্ষে দুই থেকে তিন হাজার টাকা করে দিতে হয়। খোজ নিয়ে জানাগেছে লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও মালিকানা বদলি, পান্চ গাড়ির লাইসেন্স করতে সরকারি ফির চেয়ে অনেক বেশি টাকা দাবি করে দালালরা।

ইতিপূর্বে নিয়মিত বিরতিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে দালালদের হাতেনাতে আটক করছে। দালালদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে তবুও থামছে না দালালদের দৌরাত্ব। দালালরা নিজেদের বিআরটিএ-র পরিচিত বা কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে গ্রাহকদের ফাদে ফেলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে ।

ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেলে সক্রিয় আছে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ জন দালাল। অভিযোগ বিষয়ে দালাল মুরাদ ও রিয়াজের সাথে বিআরটিএ অফিসের ১০৫ নং রুমে কথা হলে প্রথমে নিজেদের অফিস স্টাফ পরিচয় দিলেও কিছুক্ষন আফিসের বাহিরে এসে বলেন, আমরা মানুষের সেবা করি, আপনার কোন কাজ থাকলে বলেন করে দিবো।

এ বিষয়ে ইন্সপেক্টর আবুল কালাম আজাদ এর সাথে কথা হলে তিনি জানান অফিস স্টাফ বাদে কেউ  ১০৫ ও ৩য় তলায় বসে এটা ঠিক না পরে তিনি জানান যদি এ ধরনের কেউ বসে কি না খোজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। বিআরটিএ কুষ্টিয়া সার্কেলের সহকারী পরিচালক মাহাবুব রব্বানী বলেন, বর্তমানে সবকিছু অনলাইনে হয়। যদি তাঁর অফিসের কেউ টাকা লেনদেন করে থাকেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দালালদের তার অফিসের ১০৫ নং রুম ও ৩য় তলায় তার পাশের রুম ব্যবহার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি খোজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।